‘উগ্রবাদের আশঙ্কায়’ বুয়েটে কমিটি দিল ছাত্রদল, ‘ব্যবস্থা নেবে’ কর্তৃপক্ষ

সি এন বাংলা ডেস্কঃগত বছরের অক্টোবরে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃপক্ষ৷ সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনে গতকাল শুক্রবার বুয়েটে সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল৷

ছাত্রদল বলছে, ছাত্ররাজনীতি না থাকলে বুয়েটে ‘উগ্রবাদের’ উত্থান ঘটার আশঙ্কা রয়েছে৷ তাই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত তারা মানে না৷ তবে বুয়েট কর্তৃপক্ষ বলছে, নিষেধাজ্ঞার পরও কমিটি দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

গতকাল রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বুয়েট শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন৷ এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ এই কমিটির অধীন ইউনিটগুলোর কমিটির তালিকা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে৷

ছাত্রদল

বুয়েট শাখা ছাত্রদলের এই কমিটিতে আসিফ হোসেনকে আহ্বায়ক, আলী আহমদকে সদস্য সচিব ও ফয়সাল নূরকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে৷ এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে নওরোজ রহমান ও মুসাওয়ার আহমেদকে৷

গত বছরের অক্টোবরে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী৷ এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে দুই মাস অচল ছিল প্রতিষ্ঠানটি৷ পরে দাবি অনুযায়ী সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার ও র‍্যাগিংয়ে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হলে ডিসেম্বরে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরেন শিক্ষার্থীরা৷

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলছেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত তাঁরা মানেন না৷ ইকবাল আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি ছিল একটি অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত৷ আর এটি মূলত ছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসকের সিদ্ধান্ত৷ স্বাভাবিক মতপ্রকাশ বাধাগ্রস্ত হলে সেখানে উগ্রবাদের জন্ম হয়৷ আমরা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি৷ তাই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে আমরা গ্রহণ করিনি আর করবও না৷’

তবে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও ছাত্রদলের এই কমিটি গঠনের ঘটনায় বিস্মিত বুয়েট কর্তৃপক্ষ৷ প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক মিজানুর রহমান আজ শনিবার এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল৷ তখন দেশবাসী এই সিদ্ধান্তকে অভিনন্দিতও করেছিলেন৷ তারপরও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন বুয়েটে তাদের শাখা কমিটি করল৷ এটি আমাদের জন্য নতুন একটি অভিজ্ঞতা৷ বুয়েটের ডিসিপ্লিনারি বোর্ড এ বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে৷ কমিটিতে বুয়েটের সাবেক কোনো শিক্ষার্থী থেকে থাকলে তাঁর বা তাঁদের সনদ বাতিল করার সুযোগও রয়েছে৷

সিএনবাংলা / মান্না

 

Sharing is caring!

 

 

shares