সিলেট বিএনপির সম্মেলন ঘিরে নাটকীয়তা, শাহীন-শাকিলের বাদ নিয়ে আলোচনা

নিউজ ডেস্কঃ গত সোমবার (২১ মার্চ) জেলা বিএন‌পির বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন ও কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। তবে রোববার কেন্দ্র থে‌কে ‘অনিবার্য কারণবশত’ সম্মেলন ও কাউন্সিল স্থগিত করা হয়। এক্ষে‌ত্রে সময়মত ভোটার তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া‌কে কারণ হি‌সে‌বে উল্লেখ ক‌রে‌ছি‌লেন বিএন‌পি নেতারা। নাটকীয়তার পরের পর্যায়ে আরেক দফা যোগ হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতিপ্রার্থী সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার, এবং শেষ পর্যায়ে কামরুল হাসান শাহীন, শাকিল মোর্শেদের প্রার্থিতা বাতিল।

এরআগে, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুল আহাদ খান জামালের প্রার্থিতা বাতিল করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন। তবে ওইদিন বাতিল হয়নি কামরুল হাসান শাহীন ও শাকিল মোর্শদের প্রার্থিতা।
জেলা বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে এই নাটকীয়তায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, ভোটার তালিকা যারা করেছেন তাদের কর্মকাণ্ডের বলি হয়েছেন দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীরা।

বিএনপির সিলেট জেলা শাখার আসন্ন সম্মেলন ও কাউন্সিল সফল এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আব্দুল গফফারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিন পদে ৯ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন।

সভায় প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম ও ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে সভাপতি পদে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাধারণ সম্পাদক পদে আ. ফ. ম কামাল, আলী আহমদ, অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও মো. আবদুল মান্নান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এম মুজিবুর রহমান মুজিব, লোকমান আহমদ ও মো. শামিম আহমদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

নির্ধারিত তারিখের একদিন আগে সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণায় হতাশা নেমে এসেছে তৃণমূল নেতাকর্মীর মাঝে। আবার কাউন্সিল স্থগিত ঘোষণার পর মনোনয়ন চুড়ান্ত করাও দিচ্ছে নানা বিতর্কের। দীর্ঘ ৬ বছর পর আবারো গোপন ভোটের নেতৃত্ব নির্বাচনের উৎসবে ভাটা পড়েছে। অনিবার্য কারণে রোববার হঠাৎ করেই সম্মেলন ও কাউন্সিল স্থগিত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সোমবার সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সম্মেলনের নির্ধারিত তারিখ ছিলো।

এবারের সন্মেলন ছিলো তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য ছিলো চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব রাজপথে খেই হারানোয় হতাশা থেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে উন্মুখ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাওয়া ত্যাগী ও বঞ্চিতদের নির্বাচিত করার স্বপ্ন ছিল তাদের। সম্মেলন স্থগিতের খবরে সেই স্বপ্ন উবে গেছে অনেকটাই। তার ওপর যোগ হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রিয়দের প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত।বিএনপি সিলেট জেলা শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল গাফফার জানান, সিলেট জেলা শাখার সম্মেলন ও কাউন্সিলে ৩ পদে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে যে পাঁচ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের সকলেই সাবেক ছাত্রনেতা। ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতা হওয়ায় প্রত্যেকেরই রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা কেন্দ্রীক বলয়। তাদের বেশিরভাগই বিগত ১৩ বছরে জেল জুলুম ও মামলায় জর্জরিত ছিলেন। কেউ কেউ আবার ছিলেন প্রবাসেও।
২০১৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঠে থাকলেও দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন আলী আহমদ। সম্মেলনের তোড়জোড় শুরুর পর দেশে ফিরেছেন তিনি, আছেন মাঠে। অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বাস করছিলেন।

তবে ছাত্রদল থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে দীর্ঘদিন কোনো পদ না পাওয়া কামরুল হাসান চৌধুরী শাহীন এবার কাউন্সিলরদের মন কেড়েছিলেন। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকলেই অতীতে নানা পদ পেলেও দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে বঞ্চিত রয়েছেন শাহীন। নব্বই দশক থেকে ছাত্রদল ছাড়া যুবদল কিংবা বিএনপিতে তিনি কখনই মূল্যায়িত হননি। নানা সময়ে জেল খেটেছেন, তবু দেশ ছাড়েননি শাহীন- এমনটাই দাবি তার অনুসারীদের। তার মনোনয়ন বাতিল করায় ক্ষুব্ধ অনেকেই। তারা বলছেন, যারা কাউন্সিলর তালিকা করেছেন, বিতর্কের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। একই কথা প্রযোজ্য শাকিল মোর্শেদের ক্ষেত্রেও। তিনিও কখনই বিএনপিতে মূল্যায়িত হননি।

সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন জমা দেওয়া কামরুল হাসান চৌধুরী শাহীন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিএনপিও চায় রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব তৈরি করতে। যারা মামলা, হুলিয়ার মাঝেও আদর্শচ্যুত হননি এমন নেতৃত্ব আসলে আগামীর আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে দখল রাখা সম্ভব। মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে আমার। এর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে কী না, তা খতিয়ে দেখার জন্য চিঠি দিয়েছি।

একইভাবে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে শাকিল মোর্শেদের। দীর্ঘদিন ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়া ও মামলা, কারাবন্দি থাকলেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি তার মনোনয়ন বাতিল করেছে।

Sharing is caring!

 

 

shares