বৃটিশ বাঙ্গালী স্যার এনামের উদ্যোগে সিলেটে  ১১শ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুমুখী প্রকল্পের কাজ চলছে

গোলজার আহমদ হেলাল ও নুরুল আলম আলমাস, ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে ফিরেঃ

স্যার এনাম উল ইসলাম। বাংলাদেশী বংশদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। উচ্চশিক্ষিত ব্রিটিশ বাঙ্গালী। একজন সফল, স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তিনি ইংল্যান্ডে ফিন্যান্সিয়াল ট্রেডার্স ও বিল্ডার্স ব্যবসার সাথে জড়িত। ব্যবসায়ী স্যার এনাম ব্রিটেনের সর্বোচ্চ করদাতা। ৫২ বছর বয়সী স্যার এনাম ব্রিটেনে অবস্থান করলেও জন্মভূমির প্রতি রয়েছে তাঁর অগাধ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার টানেই দেশে বাস্তবায়ন করছেন একের পর এক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প। এ সকল কার্যক্রম সমাজ উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রাখবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবন মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অসহায়দের সহায়তা ও জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের পাশে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

নিজ জন্মভূমি ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁওয়ের ক্যম্পটিলায় এবার তাঁর উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে এক বহুমুখী প্রকল্প। বিশাল এই প্রকল্পে রয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট সেন্ট্রাল এসি সমৃদ্ধ হাজী আব্দুল জলিল গ্রাউন্ড মসজিদ, স্যার এনাম উল ইসলাম ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্যার এনাম উল ইসলাম ফাউন্ডেশন হাসপাতাল (হেলিপ্যডসহ),দশ তলা বিশিষ্ট বহুতল মার্কেট, দশতলা বিশিষ্ট শিক্ষা ভবন, বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক এলাকা হাজী আব্দুল মছব্বির পল্লী। এছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ কলেজের পাশে ফাইবার অপটিকেল ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার কাজ ও চলছে। এ সকল বহুমুখী প্রকল্পে মোট ১১শ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন স্যার এনাম উল ইসলাম। তাঁর সাথে আলাপে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশে প্রচুর সমাজ উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুলক জনসেবা ধর্মী কাজ করতে চান। তিনি বলেন, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার প্রকল্পে একাধিক মুফতি কাজ করবেন। এখানে শরীয়াহ গবেষণাগার, ইসলামী মিউজিয়াম, লাইব্রেরী, মহিলাদের নামাজের স্থানসহ বিভিন্ন বিভাগ থাকবে।মুসলমানদের প্রাত্যহিক জীবনের অনেক কিছু জানা যাবে এখানে। নিজ দাদার নামে নির্মাণাধীন মসজিদটি দেশী বিদেশী বিভিন্ন জিনিস দিয়ে আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। মুসল্লীরা যাতে স্বস্তিতে সালাত আদায় করতে পারে সে ব্যবস্থা হচ্ছে বলে তিনি জানান। এ কমপ্লেক্সের অধীনে থাকবে ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের স্কলারশীপের ব্যবস্থাও থাকবে।

স্যার এনাম উল ইসলামের সম্পুর্ন ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত এ প্রকল্পের আওতায় আরও রয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতাল যেখানে হেলিপ্যডের ব্যবস্থা থাকবে মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত জায়গায় পাঠানোর জন্য। বহুতল মার্কেটে ও শিক্ষাভবনে থাকবে অফিস, ব্যাংক, বীমা, দোকান ফিমেল কলেজ, মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ইত্যাদি। এছাড়া আবাসিক পল্লীতে মানুষের থাকার সুব্যবস্থা থাকবে।

সরেজমিন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে এ প্রতিবেদকের সাথে ফোনে কথা হয় স্যার এনামের সাথে। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রনে তিনি দেশে আসেন। সরকার ঢাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দিলেও তিনি নিজ জন্মভূমিতেই প্রকল্প শুরুর উদ্যোগ নেন। তিনি আরো জানান, আগামী বছর থেকে প্রতি বছরে ১০০ টি গৃহহীন পরিবারকে গৃহ নির্মান করে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। এছাড়াও তাঁর উদ্যোগে ফেঞ্চুগঞ্জ কলেজের পাশে নির্মিত হতে যাচ্ছে ফাইবার অপটিক্যাল ফ্যাক্টরী।তিনি বলেন প্রকল্প গুলোর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১শ কোটি টাকা। এটি বাড়তেও পারে।ফাইবার অপটিক্যাল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি  হবে বলে তিনি জানান।

প্রকল্প পরিচালক খলিলুর রহমান চৌধুরী জানান, স্যার এনাম সবসময়ই জণকল্যানে অগ্রসর। করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলেও তিনি এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন।

এনাম স্যার এর বন্ধু ডা: জাকির হোসাইন ও ভাগ্না রাজু জানান, আজ ফেঞ্চুগঞ্জের ৩৬ টি পূজামন্ডপে পাঁচ হাজার টাকা করে এনাম স্যার অনুদান দিয়েছেন।তারা জানিয়েছেন,সম্প্রতি এলাকায় ৩০০জন মুসলিম ছেলেকে স্যার এনাম উল ইসলাম ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় খৎনা প্রদান করা হয়েছে।

বিশাল এই প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কম্ফোর্ট বিল্ডিং ডিজাইনের সত্ত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, এ প্রকল্প টি বহুমুখী এবং অনেক বড়। তিনি প্রকল্পের গুণগত মানের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এতে দেশের মানুষ অনেক উপকৃত হবে।

উল্লেখ্য,স্যার এনামের পিতার নামে নির্মাণাধীন আবাসিক এলাকা দক্ষিণ ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও ক্যাম্প টিলায় অবস্থিত হাজী আব্দুল মছব্বির পল্লীতে এ বছরের গত ১৯মার্চ স্যার এনাম উল ইসলাম ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।

সিএনবাংলা/এনএএ

Sharing is caring!

 

 

shares