প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁনকে চমকিত করলো প্রবাসী সাংবাদিক ফায়সাল আইয়ূবের চিঠি

অনুক্ত কামরুল, ফ্রান্স থেকেঃ

স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট ইউনিফর্ম নির্ধারণ নিয়ে লেখা ফ্রান্স প্রবাসী সাংবাদিক ফায়সাল আইয়ূবের একটি চিঠি প্রেসিডেন্ট অ্যামানুয়েল মেক্রনকে চমকিত করেছে। এজন্য প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ ধন্যবাদও জানানো হয়েছে। বুধবার প্রেসিডেন্টের দফতর শনজেঁলিজি থেকে প্রেরিত চিঠিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

তিন সপ্তাহ আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল মেক্রন বরাবরে ফ্রান্সের পাবলিক স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের একটি সুনির্দিষ্ট ইউনিফর্ম নির্ধারণ করার জন্য পত্র লিখেছিলেন ফ্রান্স প্রবাসী সাংবাদিক ফায়সাল আইয়ূব। ২২ জুলাই বুধবার দুপুরে প্রেসিডেন্ট দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রোদরিগ ফোরসি স্বাক্ষরিত এই পত্রের জবাব পেয়েছেন ফায়সাল আইয়ূব। চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ পরামর্শমূলক চিঠির জন্যে ফায়সাল আইয়ূবকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। বিষয়টি তাকে চমকিত করেছে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এটি তার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ফায়সাল আইয়ুবকে একটি বিশেষ রেফারেন্স নাম্বারও দিয়েছেন, যেটি ব্যবহার করে তিনি ভবিষ্যতে ইমান্যুয়েল মেক্রনর কাছে যে কোনো বিষয়ে সরাসরি লিখতে পারবেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইউরোপের অন্যান্য দেশে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম থাকলেও ফ্রান্সের পাবলিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্যে কোনো ইউনিফর্ম নেই। আর এজন্যই চিঠি লিখেন সাংবাদিক ফায়সাল আইয়ূব।
চিঠিতে তিনি বলেন- বর্তমানে উন্নয়নশীল এমনকি অনুন্নত দেশের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম থাকে। পক্ষান্তরে ফ্রান্সের মতো একটি উন্নত দেশে এমনটা নেই— যা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের উদ্রেক করে।
ইউনিফর্মের বিষয়টা এখানে শুধু সৌন্দর্য বর্ধনেই সীমাবদ্ধ নয়— নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে সেটা হলো যে, একটি উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী যখন একটি উন্নত ব্রান্ডের জামা জুতা নিয়ে স্কুলে আসে এবং তার সহপাঠী অথবা সহপাঠিনী যখন তা দেখে তখন স্বাভাবিকভাবে তার মন খারাপ হয়। কারণ, অনেকের পক্ষেই সব সময় ব্র্যান্ডের জামা জুতা পরা সম্ভব নয়।
আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি কারো কাছে গুরুত্বহীন মনে হতে পারে, তবে তা মোটেও গুরুত্বহীন নয়। সৃষ্টি হয় যেটা শিক্ষার্থীদের মারাত্মক মানসিক পীড়ার কারণ হয়ে যায়। এমন রাষ্ট্রসৃষ্ট বৈষম্যে বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে নিচু হয়ে যায়, কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আমি তো মনে করি বৈষম্যহীন দেশখ্যাত ফ্রান্সে এই বৈষম্য শিগগির দূর করা প্রয়োজন।

Sharing is caring!

 

 

shares