করোনার মতো বন্যা কবলিতদের নিয়েও সরকার ভ্রুক্ষেপহীন: রিজভী

সিএনবাংলা ডেস্ক:: করোনার আঘাতে অসুস্থ মানুষের প্রতি সরকার যেমন কোন দায় বোধ করেনি ঠিক তেমনি বন্যা কবলিত লাখ লাখ অসহায় মানুষের প্রতিও সরকার ভ্রুক্ষেপহীন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ শনিবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র লিপ সার্ভিস ছাড়া সরকার এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগই গ্রহণ করেনি। বন্যা উপদ্রুত মানুষগুলোর জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা না থাকায় তারা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। করোনার মহামারি মোকাবিলায় অনাচার, অব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার ন্যায় বন্যা মোকাবিলায় সরকার উদাসীন ও নির্লিপ্ত।

কোরাবানি ঈদের প্রাক্কালে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মানুষের পাশে নেই সরকার। এমনিতে করোনার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত মানুষ তার উপর বন্যার মহাদুর্যোগে মানুষ বির্পযস্ত। কিন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় মানুষের ঈদের আনন্দ মাটি হতে বসেছে। করোনা মহামারির ব্যর্থতা, করোনার টেস্ট জালিয়াতি ও ভয়াবহ বন্যার দুর্যোগ ঢাকার জন্য নানা ইস্যু তৈরি করে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে সরকার।

তিনি বলেন, ২৩ দিন ধরে অতিবাহিত হওয়া বন্যা পরিস্থিতির এখনও কোন উন্নতি নেই। বরং দিনকে দিন বন্যা প্রলয়ংকারী রূপধারণ করছে। অস্বাভাবিকভাবে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী এই বন্যার কবলে প্রায় ২০-২৫টি জেলার বিস্তৃর্ণ অঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। দেশের অধিকাংশ নদনদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই বন্যা নাকি আরো তিন সপ্তাহ স্থায়ী হবে, যদি তাই হয় তাহলে বাংলদেশের ব্যাপক এলাকা পানিতে ডুবে অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করবে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তিস্তা, আত্রাই, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা ও কুশিয়ারাসহ দেশের অধিকাংশ নদীর উপচে পড়া বন্যার পানিতে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বর্তমানে দ্বিতীয় দফা বন্যা চলছে। আরো এক দফা বন্যার পূর্বাভাসে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে হাওরবাসী।

বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ সমাজের বিত্তবানদের বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান রিজভী।

সিএনবাংলা/একেজে

Sharing is caring!

 

 

shares