স্যার না ডাকায় ক্ষেপে গেলেন দিরাইয়ের ইউএনও

সিএনবাংলা ডেস্ক :: স্যার না ডাকায় রেগে গেলেন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দায়িত্ব পালন করা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফি উল্লাহ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩.৪৬ মিনিটে দিরাই উপজেলায় পরিবেশ ও হাওর ধ্বংসকারী প্লাস্টিকের ছাঁই তৈরি করা হয় এবিষয়ে বক্তব্য আনতে ইউএনও শফি উল্লা কে ফোন দেন, এক সাংবাদিক। পরে পরিচয় দিকে বক্তব্য নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে “আচ্ছা ঠিক আছে, ধন্যবাদ ভাই ” এই বলে সাংবাদিক ফোন রাখেন।

পরে দু’মিনিটের মধ্যেই ৩.৪৭ মিনিটে (01730-331113) এই নাম্বারে ফোন ব্রেক করে শফি উল্লা বলেন, আপনি কোন পত্রিকায় কাজ করে? প্রতিবেদক উত্তর দেন, দৈনিক সিলেট মিরর পত্রিকায়।

পরে তিনি বলেন, একটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ইউএনও কে ভাই ডাকতেছেন কেন? পরবর্তীতে ক্ষেপে গিয়ে শফি উল্লা আবারও বলেন, ইউএনও কে ভাই ডাকা যাবে না। তখন ঐ প্রতিবেদক বলেন, আমরা তো ডিসি সাহেবকে ও ভাই বলেই সম্বোধন করি। তখন ইউএনও শফি উল্লা বলেন, ডিসি সাহেব কে ডাকছে- ডাকেন । কিন্তু আমাকে ভাই ডাকা যাবে না।

বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র । প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে­ জনগণ স্যার-ম্যাডাম সম্বোধন করবে নাকি প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণকে (যারা সকল ক্ষমতার উৎস) প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ­ স্যার সম্বোধন করবে? নাকি উভয় উভয়কে করবে?

নাকি সংবিধানের কোথাও স্যার ডাকায় বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে? অবশ্যই নেই। যদি স্যার ডাকতে হয় তবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরাই ডাকবেন। এবিষয়ে গত বছর একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনাও দিয়েছেন।

এবছরের ৮ ফেব্রুয়ারি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুদক কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা চাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের “স্যার” সম্বোধন করবেন।নাগরিকরা না।

এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার শফি উল্লাহ সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন আমার সিটিং আছে পরে কথা বেলবো।

সিএনবাংলা/জীবন

Sharing is caring!

 

 

shares