ধর্ষকদের বিচার দাবিতে ঢাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

সিএনবাংলা ডেস্ক :: সিলেটে এমসি কলেজে নববধূকে গণধর্ষণ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

ধর্ষকদের বিচার দাবিতে সোমবার দুপুরে হাউজ বিল্ডিং চৌরাস্তা এলাকায় তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় ছাত্র-ছাত্রীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এতে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট তৈরি হয়েছে।

উত্তরা ইউনিভার্সিটির ছাত্র শৈবাল বলেন, সিলেটে এমসি কলেজে নববধূকে গণধর্ষণ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রত্না বলেন, ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবিতে আমরা রাজপথে নেমেছি। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।

উত্তরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শচীন মৌলিক বলেন, মহাসড়ক ছেড়ে দিতে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুরোধ করছি। তবে বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক নববধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত মামলার ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিসহ ৮ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

অপরদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে থানায়।

আসামিরা হলেন- বাদল, মো. রহিম, আবুল কালাম, ইস্রাফিল হোসেন, সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, আবদুর রব, আরিফ ও রহমত উল্যা। তাদের সবার বাড়ি বেগমগঞ্জে।

ওই মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব; নোয়াখালীর পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুনুর রশীদ জানান, নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে রোববার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। সেখানে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

সিএনবাংলা/জীবন

Sharing is caring!

 

 

shares