এম সি কলেজের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সর্বমহলকে ব্যতিত করেছে

মু.আব্দুল আলীঃ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম সি কলেজে একের পর এক ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের ন্যাকারজনক ঘটনার নিন্দা জানানোর কোন ভাষা নেই। প্রিয় এই প্রতিষ্ঠানে  ছাএনামধারী সন্ত্রাসীদের জঘন্যতম কর্মকাণ্ডের কারনে আজ এই প্রতিষ্ঠানের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে নিজের কাছে খুবই কষ্ট লাগে। আগে আমরা গর্ব করে বলতাম আমি ছিলাম এম সি কলেজের সাবেক ছাত্র। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে ছাএলীগের সন্ত্রাসীরা যেকয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে এখন মনে হচ্ছে প্রানের ক্যাম্পের কথা কেউ বললেই লজ্জা লাগে।  সিলেটের এম সি কলেজ এরিয়াটা এখন এক আতঙ্কের নাম। সন্ত্রাসীরা একের পর এক বীভৎস ঘটনার জন্ম দিলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। উল্টো তাদেরকে প্রস্রয় দিয়ে এই সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি সহযোগিতাও করা হচ্ছে । বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সমস্ত সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতাদের নামও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের সন্ত্রাস ও ধর্ষক নির্মূলের সত্যিকারের সদিচ্ছা থাকলে এই সমস্ত সন্ত্রাসীদের গডফাদারদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই তাদের ছেলে পেলেও সাবধান হতো। সিলেট তথা বাংলাদেশের  সুনামধন্য এই বিদ্যাপীঠকে তারা শেষ করে দিচ্ছে। বিগত এক দশকে তারা একে একে তিনটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।

২০১২ সালের ৮ জুলাই ছাত্রলীগ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে আগুন জালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে ৪২টি কক্ষ ভস্মীভূত হয় । ঐ ঘটনার পর তত্কালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবসহ অনেকেই দুঃখ প্রকাশ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতার জোরে দোষীদের রীতিমতো কিছুই হয়নি।
তারপর ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে খাদিজা নামক এক মেয়েকে গুরুতর আহত করেন। ঐ ঘটনার সময় হামলাকারী বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় জনতা। মামলায় বদরুলের যাবজ্জীব কারাদণ্ড হয়।

সর্বশেষ গত ২৫শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ সুরমা এলাকার এক যুবক স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে এমসি কলেজে বেড়াতে যান । সেখানেই ছাএলীগের ৬জন রাক্ষসদের চোখে পড়লে তারা তাদেরকে ধরে এম সি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে আসেন। এরপর ছাত্রাবাসে এনে এই দম্পত্তিকে প্রথমে মারধর করার পর শকুনেরা স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে। যা শুনলেই গা শিউরে ওঠে। কিভাবে পারলো তারা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিতে।

এভাবে বিগত এক দশকে যেভাবে প্রিয় ক্যাম্পকে ছাএলীগের সন্ত্রাসীরা কলুষিত করেছে তার নিন্দা জানানোর কোন ভাষা জানা নেই। শুধুই বলবো এই সমস্ত সন্ত্রাসী এবং তাদের গডফাদারদের লেজ এখনই টেনে ধরা উচিত। দলমতের উর্ধে উটে প্রিয় ক্যাম্পকে রক্ষা করার সার্থে সিলেটের আপামর জনতার পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপই পারে এই সমস্ত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিয়েএসে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ও ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস ও ধর্ষক মুক্ত করা।

লেখকঃ সাবেক ছাত্র সিলেট এম সি কলেজ,
মানবাধিকার ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট (ইউকে), সহ সম্পাদক, ডেইলি সিএনবাংলা।

Sharing is caring!

 

 

shares