পিরোজপুরের নাজিরপুরে কলেজ ছাত্রী ও স্কুল ছাত্রকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন এবং ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি।

পিরোজপুর প্রতিনিধি : ১৬ আগস্ট বুধবার নাজিরপুরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে দিনভর আটকে রেখে মারধর, শীলতহানী, বিবস্ত্র করে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারন করে স্হানীয় কয়েক বকাটে যুবক এমনই অভিযোগ করেছেন ঐ ঘটনায় আহত ২ স্কুল কলেজ ছাত্র ছাত্রী।

এ সময়ে তাদের জীবন বাচানোর আত্নচিৎকারে এলাকাবাসী মারাত্নক অসুস্থ অবস্হায় উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক দিয়ে শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটতে পারে বিধায় চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে বলে কিন্তুু এসময়ে স্হানীয় এক জনপ্রতিনিধি হাসপাতালে এসে বিষয়টি যাতে গণমাধ্যমে ও পুলিশ পর্যন্ত না গড়ায় তাই সালিসি মিমাংসার নাম করে হাসপাতাল থেকে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। ততক্ষণে এ ঘটনা পুলিশের কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

পুলিশ ঐ জনপ্রতিনিধির বাসা থেকে আহত কলেজ ছাত্রী ও স্কুল ছাত্রকে উদ্ধার করে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায় এবং এই ঘটনার মুল হোতা মনিরকে বুধবার রাত সাড়ে নয়টার সময়ে গ্রেফতার করে নাজিরপুর থানা পুলিশ। হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রী জানায়, বুধবার সকালে উপজেলা সদরে প্রাইভেট  পড়া শেষ করে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রতিবেশী ছোট ভাই শজিবকে নিয়ে উপজেলার শাখারীকাঠী ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামের দাদা বাড়িতে রওনা হয় পথিমধ্যে একই ইউনিয়নের গোপেরখাল নামক স্হানে পৌছালে স্হানীয় বকাটে মনির, শুভ, অভিযিত, শফিক মন্ডল পথরোধ করে দাড়ায় ও অশ্লীলতা শুরু করে পাশ্ববর্তী কলা বাগানে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং জানতে চায় ২ জনের মধ্যে কি সম্পর্ক।

ঐ কলেজ ছাত্রী বলে, শজিব আমার প্রতিবেশী ছোট ভাই। তখন বকাটেরা বলে আমরা যা বলবো তোরা তাই বলবি। তোরা ২ জনে প্রেমিক প্রেমিকা এবং অবৈধ কাজ করার সময় তোদের হাতেনাতে ধরি তাই তোদের আটক করা হয়। তাদের এ শিখানো কথায় রাজি না হওয়ায় মারধর করে ২ জন বিবস্ত্র করে অন্তরঙ্গ ভিডিও ও ছবি তুলে। এসময়ে অভিবাবকদের মোবাইলে ফোন দিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আবার দ্বিতীয় দফায় মারধোর করে কান্না শোনানো হয় ও ১ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ফেসবুক, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইউটিউবের পর্নো সাইটে আপলোড করে দেয়া হবে। পুলিশ ধারনকৃত ভিডিও ক্লিপ ও ছবি তোলার মোবাইল কিংবা ডিভাইস এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।

বর্তমানে এই ২ ছাত্র ছাত্রী নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। নাজিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুল ইসলাম মুনির জানান, এ ঘটনার মুল হোতা বকাটে মনিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য বকাটেদেরও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিএনবাংলা /শোভন

Sharing is caring!

 

 

shares