আল নূর মসজিদে নিহতদের মর্মস্পর্শী কাহিনী!

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হোসনা আহমদ, সৈয়দ আরিব আহমদ, ফারহাজ আহসান, আব্দুল্লাহি দিরি, আলী আল মাদানী, লিলিক আব্দুল হামিদ, মুস্তাক ইব্রাহিম, মোহাম্মদ ইমরান খান, সৈয়দ মিলনি, জুনায়েদ মোরতারা, হাজী দাউদ নবী, হোসনে আরা পারভীন, নাঈম রশিদ, তালহা রশিদ, হোসেন আল উমারি, মাহবুব খোকার, রমিজ ভোরা, আসিফ ভোরা, আনসী আলীবাবা, উজায়ের এবং আহতদের মধ্যে রয়েছেন- সাব্রি দারাগমেহ, মোহাম্মদ ইলিয়ান, মোহাম্মদ আমিন নাসির, আদিব সামী প্রমূখ।
হোসনা আহমদ :
ফরিদ আহমদ আল নূর মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় স্ত্রী হোসনা আহমদকে হারানো সত্বেও নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করতে চাননি। যখন হামলার ঘটনা ঘটে তখন তারা বাথরুমে যাওয়ার জন্য আলাদা হয়েছিলেন। পরে ফরিদ আহমদ একটি ভিডিওতে তার স্ত্রী গুলিবিদ্ধ হওয়ার দৃশ্যটি দেখতে পান। জনৈক পুলিশ অফিসার হোসনা আহমদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ফরিদ আহমদ জানান যে, তিনি এখনো নিউজিল্যান্ডকে মহান দেশ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি কিছু লোক উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে নিউজিল্যান্ডে আমাদের সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে এতে সফল হবে না। আমরা সম্প্রীতি বজায় রাখবো’।
সৈয়দ আরিব আহমদঃ
সৈয়দ আরিব আহমদ সম্প্রতি তার দেশ পাকিস্তানের করাচীস্থ তার বাড়ি থেকে নিউজিল্যান্ডে আসেন চাকুরী নিয়ে। উদ্দেশ্য পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। গত শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার পরিবারকে জানান যে, আরিব আহমদ মসজিদে হামলায় নিহতদের একজন। তার এক চাচা মোহাম্মদ মোজাফ্ফর খান বলেন, আরিব ছিলো অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। শিক্ষা ছিলো তার প্রথম অগ্রাধিকার। খান বলেন, সে পাকিস্তান থেকে চার্টার্ড একাউট্যান্সির ডিগ্রী নেয়। সে ছিলো তার পিতা মাতার একমাত্র পুত্র। তার এক ছোট বোন আছে। আরিব সবেমাত্র তার কর্মজীবন শুরু করেছিলো, কিন্তু শত্রুরা তার জীবন কেড়ে নিয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুরা আহমদের বাড়িতে জড়ো হন। তার মরদেহ আগামী ক’দিনের মধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছবে।
ফারহাজ আহসানঃ
সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ফারহাজ আহসান (৩০) ভারতের হায়দরাবাদ নগরী থেকে ৬ বছর আগে নিউজিল্যান্ডে যান। সেখানে তার পিতামাতা থাকেন। আহসানের পিতা মোহাম্মদ সাইয়ীদুদ্দীন জানান, আমরা বেদনাদায়ক খবরটি পাই। হামলার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা ও বন্ধুবান্ধব তার কাছে পৌঁছার চেষ্টা করেন। ফারহাজ আহসান বিবাহিত ছিলেন। তার ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান ও অল্পবয়সী শিশুপুত্র রয়েছে।
আব্দুল্লাহি দিরিঃ
আবদুল্লাহি দিরি (৪) ছিলো তার পিতামাতার সর্বকনিষ্ট সন্তান। তার পিতা আদন ইব্রাহীম দিরি। আল নূর মসজিদে ভয়াবহ হামলা থেকে আদন ইব্রাহীম দিরির ৫ সন্তান বেঁচে গেলেও শিশু আবদুল্লাহি দিরি রেহাই পায়নি। মিনিয়েপলিসের দার আল হিজরাহ মসজিদের ৬০ বছর বয়সী ধর্ম প্রচারক ও আবদুল্লাহি দিরির চাচা আবদুল রহমান হাশি জানান, হামলার সময় দিরির দেহে একাধিক গুলি লাগে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দিরির পরিবার নব্বুইয়ের মধ্যভাগে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে পালিয়ে আসে এবং নিউজিল্যান্ডে আশ্রয় গ্রহণ করে। হাশি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমার অনুভূতি কী তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। আবদুল্লাহি দিরি ছিলো পরিবারের সর্ব কনিষ্ট সদস্য। উগ্রবাদের এটা একটি সমস্যা। কিছু লোক মনে করে, তাদের দেশে মুসলমানরা একটি অংশ, তবে তারা নিরপরাধ।
আলী আল মাদানীঃ
আলী আল মাদানী ও তার স্ত্রী ১৯৯৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নিউজিল্যান্ডে অভিবাসী হয়ে আসেন। আলী আল মাদানী ক্রাইস্টচার্চের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। তিনি তার সন্তানদের সর্বদা দৃঢ় ও ধৈর্য্যশীল থাকার উপদেশ দিতেন। তার নিহত হওয়ার পর তারা তা-ই করার চেষ্টা করছেন। তার কন্যা মাহা আল মাদানী বলেন, তিনি নিউজিল্যান্ডকে তার বাড়ি মনে করতেন এবং এখানে এ ধরণের কিছু ঘটবে তা কখনো চিন্তা করেননি। তিনি বলেন, তার মাতা যথাসম্ভব দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তার ছোট ভাইয়ের অবস্থা ভালো নয়।
অনুবাদঃ নিজাম উদ্দীন সালেহ
সূত্রঃ ডেইলী সাবাহ

Sharing is caring!

 

 

shares