মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ঐতিহাসিক সত্যতাঃ ডা:নূর উদ্দিন

ডা:নূর উদ্দিনঃ আল কোরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো মানবজাতির আলোকবর্তিকা। যেহেতু এটি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত তাই এর মধ্যে কোন ধরনের অসংগতি পাওয়া যাবে না। ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, হযরত ইউসুফ ‘আ:)-এর জন্ম হয়েছিল বর্তমান ফিলিস্তিনে। ইউসুফ (আ:) ছিলেন হজরত ইয়াকুব (আ:)-এর কনিষ্ঠতম পুত্ৰ। ইয়াকুব (আ:)-এর কাছে ইউসুফ (আ:) ছিলেন প্রাণাধিক প্রিয়। কিন্তু ইয়াকুব (আ:)-এর এই ভালোবাসা ইউসুফ (আঃ)- এর জন্য কাল হলো। তার ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র করে ইউসুফ (আ:)-কে কূপে নিক্ষেপ করে। এরপর কিছু বণিক কূপ থেকে ইউসুফ (আ:-কে উদ্ধার করে। তাকে মিসরে নিয়ে আসে। তিনি মিসরের রাজপরিবারে বড় হোন।ইতিহাস মতে, এটি ঘটে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকের আমেনহোটেপের রাজত্বকালের আরও তিন শ বছর পূর্বে। ইতিহাস থেকে আমরা আরও জানতে পারি, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে চতুর্থ আমেনহোটেপের আগে যেসব শাসক মিসরকে শাসন করেছে, তাদের সবাইকেই ‘রাজা বলে ডাকা হতো। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে চতুর্থ আমেনহোটেপের পরে যেসব শাসক মিসরকে শাসন করেছিল তাদের সবাইকে ‘ফেরাউন’ বলে ডাকা হতো। ইউসুফ (আ:) মিশরকে শাসন করেছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতকের চতুর্থ আমেনহোটেপের আগে। আর মূসা (আ:) মিসরে জন্মলাভ করেছিলেন চতুর্থ আমেনহোটেপের কমপক্ষে আরও দু শ বছর পরে। অর্থাৎ, মূসা (আ:) যখন মিসরে জন্মগ্রহণ করেন, তখন মিসরের শাসকদের আর ‘রাজা’ বলা হতো না, ‘ফেরাউন’ বলা হতো।’ কুরআনে ইউসুফ (আ:) এবং মূসা (আ:) দুজনের কথাই আছে। অবাক ব্যাপার হচ্ছে, ইউসুফ (আ:)-এর বেলায় শাসকদের ক্ষেত্রে করা কুরআন রাজা’ শব্দ ব্যবহার করলেও, একই দেশের , মূসা (আ:)-এর সময়কার শাসকদের বেলায় করেছে ফেরাউন’ শব্দটি। মক্কার নিবৃত্ত মরু অঞ্চলে বেড়ে উঠা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিহাসের এই পাঠ কোথায় পেলেন? তিনি কীভাবে জানতেন যে, ইউসুফ (আ:)-এর সময়ের শাসকদের ‘রাজা’ বলা হতো, মূসা (আ:)-এর সময়কার শাসকদের ফেরাউন’? বাইবেল এই জায়গায় একটি ভুল করেছে। বাইবেল ইউসুফ (আঃ) এবং মূসা (আঃ) দুজনের সময়কার শাসকদের জন্যই ফেরাউন’ শব্দ ব্যবহার করেছে, যা ঐতিহাসিক ভুল। “যে ভুল বাইবেল করেছে, সে ভুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে ঠিক করে দিলেন, তা কীভাবে সম্ভব যদি না তিনি কোনো প্রেরিত দূত হোন, আর কুরআন কোনো ঐশী গ্রন্থ না হয়?’ কুরআনে একটি সূরা আছে, সূরা আল-ফাজর নামে। এই সূরার ৬ নম্বর আয়াতটি এরকম: “তোমরা কি লক্ষ্য করনি, তোমাদের পালনকর্তা ইরাম গোত্রের সাথে কীরূপ ব্যবহার করেছেন?’ এই সূরা ফাজরে মূলত আদ জাতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। আদ জাতির আলাপের মধ্যে হঠাৎ করে ‘ইরাম’ নামে একটি শব্দ চলে এল; যা কেউই জানত না এটা আসলে কী। কেউ কেউ বলল : এটা আদ জাতির কোনো বীর পালোয়ানের নাম, কেউ কেউ বলল: এই ইরাম হতে পারে আদ জাতির শারীরিক কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য, কারণ এই সূরায় আদ জাতির শক্তিমত্তা নিয়েও আয়াত আছে। মোদ্দাকথা, এই ‘ইরাম’ আসলে কী, সেটার সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা কেউই দিতে পারেনি তখন। এমনকি , গোটা পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে ইরাম নিয়ে কিছুই বলা ছিল না। কিন্তু ১৯৭৩ সালে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি সিরিয়ায় মাটির নিচে একটি শহরের সন্ধান পায়। এই শহরটি ছিল আদ জাতির শহর। সেই শহরে পাওয়া যায়, সুপ্রাচীন উচু উচু দালান। এমনকি, এই শহরে আবিষ্কার হয় তখনকার একটি লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরিতে একটি তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় তারা যে সকল শহরের সাথে বাণিজ্য করত, সেসব শহরের নাম উল্লেখ ছিল। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এই যে, সেই তালিকায় ‘ইরাম’ নামের একটি শহরের নামও পাওয়া যায়, যেটা আদ জাতিদেরই একটি শহর ছিল । শহরটি ছিল একটি পাহাড়ের মধ্যে। এতেও ছিল সুউচ্চ দালান। এটি যদি মানব রচিত হত তাহলে অনেক অসঙ্গতি থেকে যেত। কুরআনে বর্ণিত শত শত বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা গুলোর কোনটিই আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। যারা এই কোরআনের ভুল ধরতে এসেছিলেন তাদের অনেকেই নিজেদের ভুল চিনতে পেরেছেন। হয়ে গেছেন আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা। আল্লাহ আমাদেরকে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন থেকে হেদায়েত লাভ করার তৌফিক দান করুক। লেখক: সহকারী অধ্যাপক ( শিশু ) শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ টাঙ্গাইল।

সিএনবাংলা/ মান্না

Sharing is caring!

 

 

shares