গোলাপগঞ্জের বাদেপাশার যাতায়াতের রাস্তা নয় যেন মরণ ফাঁদ ‌..!

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোলাপগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন ১০ নং উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত বাগলা গ্রাম।

গ্রামের জনপদের বিশাল জনগোষ্ঠীর আর্তচিৎকার একটি রাস্তার জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত স্হানীয় জনপ্রতিনিধির উদাসীনতা এলাকার জনপদকে করেছে হতাশ।

ইউনিয়নের নির্বাচনী ৪,৫,ও ৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে বেষ্টিত বৃহত্তর বাগলা। তাছাড়া ৭ নং ওয়ার্ডেরও কিছু অংশ বৃহত্তর বাগলার মধ্যে পরে।

ইউ/ পি নির্বাচনে বৃহত্তর বাগলা এলাকাকে ভোট ব্যাংক হিসাবে নেওয়া হয় হয়।
অতীতে যতগুলো
ইউ/ পি নির্বাচন হয়েছে সবগুলো নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বাগলা এলাকার রাস্তার অচলাবস্থাকে পুজি করে ভোটের নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষনা করেন।
কিন্তু নির্বাচন শেষ তো ইশতেহার ও শেষ। রাস্তাটি আগের মতোই রয়ে যায়।

রাস্তাটির নাম কটলীপাড়া- বসন্তপুর রাস্তা। সেখানকার জনপদ বছরের পর বছর থেকেই শুনে আসছে জাতীয় সংসদে রাস্তাটি পাকা করনের জন্য বিভিন্ন সময় অনেক স্থানীয় সাংসদ আলোচনা করেছেন।
কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

অবশেষে সিলেট-০৬ আসনের বারবার নির্বাচিত সংসদ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম. পির প্রচেষ্টায় ও নেতৃত্বে কটলীপাড়া- বসন্তপুর আঞলিক সড়ক এর পাকা করনের কাজ ধাপে- ধাপে দ্রুত গতিতে চলতে থাকে।১০ নং উত্তর বাদেপাশা ইউ/ পি’র আছিরগঞ্জ বাজার হতে বাগলা বাজার হয়ে রাকুয়ার বাজার পযর্ন্ত পাকা করনের টেন্ডার হলেও অদৃশ্য কারনে রাস্তা পিছের কাজ মুল্লারচক অংশে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
রাস্তার বাগলা অংশের কাজ না হওয়াতে একদিকে কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গন – অন্যদিকে রাস্তার ভয়াবহ অচলাবস্থায় ভোগান্তিতে পড়ে এলাকাবাসী। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রুগী, গর্ভবর্তী মহিলাদের ও এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ও ইউনিভার্সিটির ছাত্র- ছাত্রীদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি ।
ইউ/ পি’র উত্তর অংশের বেশিরভাগ এলাকার জনগণ নাগরিক সেবা নিতে ইউনিয়ন অফিসে যাতায়াতে বিঘ্নতা দেখা দেয়।

এমনকি রাকুয়ার বাজারে স্থাপিত কুশিয়ারা পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদেরও চলাচলে রাস্তা রাস্তা দিয়ে।

৩ বছর পূর্বে জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বৃহত্তর বাগলা এলাকার যুব সমাজের উদ্দ্যোগে, ঘরে ঘরে চাঁদা তুলে ও দেশ- বিদেশে অবস্থানরত সমাজের বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতায় আনুমানিক ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মুল্লারচক পিছের মুখ থেকে বাগলা বাজার পযর্ন্ত ইট সলিং এর কাজ করানো হয়।কিন্তু নদী ভাঙন এবং ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে রাস্তাটি দিন দিন নদীগর্ভে বিলীন ও চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে।বর্তমানে ভারী বর্ষণে কাদামাটির কারনে রাস্তা দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য যে গত বছর স্থানীয় সংসদ নুরুল ইসলাম নাহিদ এম. পির নির্দেশনায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ পিছের মুখ হইতে বাগলা বাজার হয়ে বাগলা মাইজপাড়া খেলার মাঠের সম্মুখ পযর্ন্ত রাস্তা পাকা করনের জন্য মাপ-জোখ করে মাননীয় এম. পি মহোদয়ের গ্রামীন অবকাঠামোগত উন্নয়নের আওতায় বরাদ্দের প্রেক্ষিতে টেন্ডার আহবানের কথা থাকলেও এখনো তা অপেক্ষান।

বর্তামান সংসদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম. পি বিশেষ করে কুশিয়ারা অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করন,অবকাঠামোগত উন্নয়ন,রাস্তাঘাট উন্নয়ন করেছেন এবং অনেক উন্নয়নমুখী কাজ চলমান। এলাকাবাসী আশাবাদী উনার সুদৃষ্টি রাস্তাটির উপর।

এ বিষয়ে বাদেপাশা ইউ.পির বর্তমান চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমেদের সাথে আলাপ করেলে তিনি সি.এন. বাংলাকে বলেন। এই রাস্তাটি সংস্কার করা আমাদের প্রাণের দাবী। গত ১২ বছরদরে আমরা এই রাস্তাটি কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোন অদৃশ্য ইশারায় কাজটি হচ্ছে না তা আমার জানা নেই। এই রাস্তাটি আমাদের ৩টি ইউনিয়নের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা। আমরা আশা খুব শীঘ্রই রাস্তাটির কাজ শুরু হবে বলে আমি মনে করি।

Sharing is caring!

 

 

shares