সুনামগঞ্জে লটারির মাধ্যমে র্কমস্থল র্নিধারণ এক অন্যন্য প্রশংসনীয় উদ্যোগ!

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদকঃ গণপ্রশাসনে বদলি একটি নিয়মিত ও স্বাভাবিক র্চচা। র্নিদিষ্ট সময় অন্তর অন্তর র্কমস্থল পরির্বতন সরকারি বিধি বিধান দ্বারা র্নিধারিত।
এ ধরনের একটি স্বাভাবিক বিষয় তখনই আলোচ্য বিষয় হিসাবে গুরুত্ব পায় যখন সেটি ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে আলোচিত সমালোচিত হয়।বলা বাহুল্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্প্রতি একটি বদলি আদেশ সুশীল সমাজ ও সুধীজনের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে। যা  প্রশংসনীয় ও অনুকরণযোগ্য উদ্যোগ হিসাবে দেখছে গোট জেলাবাসী।
বিভিন্ন স্থানীয় , আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ সূত্রের আলোকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে সম্প্রতি ১০ জন ভূমি সহকারি র্কমর্কতা ও ১৮ জন ভূমি উপ সহকারি র্কমর্কতাকে বদলি করা হয়েছে।এ বদলি আদেশ জারি করতে যে প্রক্রিয়া অনুসৃত হয়েছে সেটিই আসলে শুধু মাত্র জেলাবাসীকে নয় গোটা দেশবাসীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত বা অনুকরণীয় কাজ হিসাবে প্রশংসার দাবি রাখে।ওই ২৮ জন সরকারি র্কমচারি সরকারি নীতিমালা অনুসারে বদলিযোগ্য ছিলেন।র্কতৃপক্ষ যাকে যেমন ইচ্ছা তেমন স্থানে বদলি করতে পারতেন। আবার ওইসব সরকারি র্কমচারী র্কমর্কতার চাহিদা মাফিক নিজের পছন্দেও স্থানে বদলী করতে পারতেন।বিশেষ করে ভূমি সহকারি বা উপ সহকারি র্কমর্কতাদের বদলির ক্ষেত্রে অতীতে নানা অনৈতিক  সুবিধা বিনিময়ের বিস্তর অভিযোগ শোনা যেত।

জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে চাঁপ তৈরী,তদবির, ঘুষ বাণিজ্য প্রদান ইত্যাদি অনৈতিক প্রক্রিয়ায়  উপরি আয়ের দিক দিয়ে বেশ ভালো আয়ের স্থানে বা তহসিল অফিসে পদায়ন পাওয়ার পুরনো প্রথা চালু ছিল। জেলার শিল্প নগরী ও প্রবাসী অধ্যুষিত ছাতক , প্রবাসী অধ্যুষ্যত জগন্নাথপুর, জেলা সদর, খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক ও সীমান্তজনপদ তাহিরপুর সহ জেলার কোনো কোনো তহসিল অফিসে পদায়ন পেতে নানাবিধ লোভনীয় উপটৌকন, পকেট র্ভতি নয় ব্যাগ ভরে টাকা লেনদেনের গল্প গুজবও শোনা যেতো। আলোচ্য চলমান বদলিটিও সেভাবেই হতে পারত।
কিন্তু হয়নি একজন জেলা প্রশাসকের স্বদিচ্ছা ও স্বচ্ছতা ও নিজ দায়িত্ব র্কতব্যেও গুরুত্ব অনুধাবন করার কারনে।

সুশীল স্বজ্জন  জনবান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসাবে সুনামগঞ্জর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ইতোমধ্যে অত্র জেলার র্সবমহলে নিজের স্বতন্ত্র সাদামাটা জীবনের অধিকারী হিসাবে পৃথক একটি ভাবর্মূতি দাড় করাতে পেরেছেন ।
ভূমি র্কমর্কতাদের আলোচিত বদলি আদেশটি তাঁর ওই ভাবর্মূতিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।এই ২৮ ভূমি র্কমর্কতার বদলির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক গতানুগতিকতা পরিহার করে লটারির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বদলিযোগ্য র্কমচারিরা নিজেরাই লটারির মাধ্যমে নিজেদের বদলিকৃত র্কমস্থল র্নিধারণ করেছেন। এতে কারও ভালো কিংবা অপেক্ষাকৃত কম ভালো র্কমস্থল র্নিধারিত হয়েছে, কিন্তু সবচাইতে যেটি ভাল হয়েছে তা হল, এই পদায়ন নিয়ে কারও কোনো আপত্তি জানাবার সুযোগই থাকলো না।একই সাথে এ বদলির ক্ষেত্রে কোন জনপ্রতিনিধির চাঁপ, উপটৌকন বিনিময় ,তদবির, প্রভাব, সর্ম্পক, র্অথ ইত্যাদি অস ও অনৈতিক সংযোগের কোন সেতুবন্ধন ছিলো না।

সর্ম্পূণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এই বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে। এ হেন একটি অনুকরনীয় ও
দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কাজ করার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে জেলার র্সবমহল সাধুবাদ জানিয়েছেন।  তার এ কাজ দেশের অন্যান্য জেলার নিকট অনুকরণীয় কাজ হিসাবে গ্রহনযোগ্য হতে পারে বলে জেলার সুশীল সমাজ আস্থা করেন।সরকারী নানা অধিক্ষেত্রে বড় বড় র্দুনীতি ও অব্যবস্থাপনার খবর দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন মিডিয়ার নানা সময়ে  ফলাও করে প্রচার হয়।সরকারি র্পযায়ে থাকা প্রশাসনযন্ত্র বা বিভিন্ন দফতর নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাব আজো
স্বস্থিকর কিংবা সুখকর নয়। বরং জনমনে সরকারি বেসরকারী প্রশাসন, দফতর নিয়ে সন্দেহ, ভয় ও
অন্যায্যতার চিন্তা শঙ্কা কাজ করে।এইরকম বাস্তবতায় সরকার জনপ্রশাসনকে গণমুখী করতে নানামুখী প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সরকারি প্রশাসনে শুদ্ধাচার, উদ্ভাবন, সমানাভূতি, প্রাযুক্তিক উ র্কষতা, ইত্যাকার বিভিন্ন আধুনিক ধ্যান ধারণার প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে। কিছু কিছু র্কমর্কতা যে সরকারি এই উদ্যোগগুলোকে নিছক খেতাবি পরিভাষা না ভেবে অন্তরে আত্বায় ধারণ করে রেখেছেন  সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ আরও একাধিক দাফতরিক র্কমকান্ডের সাথে এই বদলি আদেশ জারির মাধ্যমে তার উজ্জল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আমরা চাইব এই অভিনব প্রক্রিয়ার অর্ন্তনিহিত সদ্ভাবনাটি দেশের র্সবত্র অনুকরনীয় হোক।

বিশেষ করে যে সব সরকারী দফতর সমুহে সেবা ও উন্নয়ন র্কমকান্ড বাস্তবায়ন করা হয় সেইসব দফতরে এ
ধরনের র্চচার প্রসার প্রয়োগ ঘটুক।তাহলে জনপ্রশাসন সত্যিকার র্অথে জনমুখী চরিত্র ধারণ করে শুভ্র সমুজ্জ্বল হয়ে দেশের সাধারন নাগরিকগণের নিকট আস্থা র্অজনে সক্ষম হবে, থাকবেনা জনমনে কোন রকম শঙ্কা, টাকা খরচ কওে বধলী হয়ে টাকা কামানোর মেশিনে রুপন্তিরিত হওয়ার চিন্তা চেতনা থেকেও বেড়িয়ে আসবেন অনেক সরকারী
র্কমচারী-র্কমর্কতা।  সবশেষে ছোট্ট একটি কথা।লটারি একটি যান্ত্রিক ও ভাগ্যর্নিভর প্রক্রিয়া। এতে র্কমস্থলের জন্য উপযুক্ত লোক র্নিবাচন নাও হতে পারে। তবে আর সব প্রক্রিয়া যখন প্রশ্নবিদ্ধ ও নিষ্কলুষ রাখা কঠিন তখন লটারিই উত্তম। একসময় হয়তো উপযুক্ততা ও ন্যায্যতা বিবেচনা করে পদায়ন করার পরিবেশ তৈরি হবে।সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নিজস্ব উদ্যোগে বদলীর ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের জায়গার পরির্বতে লটারি উদ্যোগটি সেই পথকেই প্রসারিত করেছে।

Sharing is caring!

 

 

shares