শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে চাই যৌক্তিক ও বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত”

মতামত

মোঃ আরাফাত রহমান
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরূল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া নিয়ে চলছে কাঁদা ছোড়াছুড়ি । কেউ পক্ষে – কেউ বিপক্ষে । তবে যাই হোক না কেন , সব কিছুর মূল লক্ষ্যই হচ্ছে একটি সঠিক ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্তে পৌছানো।একেক জন একেক ভাবে নিজের মতো করে ভাবছে । কেউ বলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে। আবার কেউ বলছেন যে মহামারীর বর্তমান পর্যায়টি আরো দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে । তাই কবে সবকিছু অনুকূলে আসবে সে অপেক্ষায় বসে থাকার সুযোগ নেই । সবচেয়ে বড় লক্ষণীয় বিষয় এই যে , এখন দেশের কোথাও কোন লকডাউন নেই । গার্মেন্টস, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সহ অন্য সকল কিছুই চলছে সম্পূর্ণ বাঁধাহীন ভাবে। কোথাও কোন প্রকার নিয়ন্ত্রন নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও করোনা নিয়ন্ত্রন করার জন্য কোন প্রকার পদক্ষেপই পরিলক্ষিত হচ্ছে না । বিষয়টি এমন নয় যে, প্রয়োজনের তাগিদে সবকিছু বাঁধাহীন ভাবে খুলে দেয়া হয়েছে। যদি তাই হতো, তাহলে আংশিক ভাবে সবকিছু খুলে দিয়ে, বাকি সময়টুকু লকডাউন করে রাখলে এতো দিনে করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে আসতো । এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বার বার বলা হচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো হয়নি। কিন্তু এভাবে সবকিছু খুলে দিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখলেই কি অনুকূলে পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব? সুতরাং অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায় অনির্দিষ্টকাল বসে থাকার কি কোন যৌক্তিকতা আছে ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৫ থেকে ১০ বছর এই মহামারী স্থায়ী হতে পারে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে , খুব শিগগিরিই স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে না। তাই অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায় বসে থাকা নেহায়েত বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। তাছাড়া আমরা তো এখন প্রতিটি পদেই জীবনের ঝুঁকিতে আছি। হাট বাজার থেকে শুরু করে সবকিছুই তো আমাদের এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি মেনে নিয়েই চালিয়ে যেতে হচ্ছে । তবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে রাখার বিষয়টি এখানে কোন ভাবেই যৌক্তিক নয়। অন্য সকল কিছুর মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয় মেনে নিয়েই আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, করোনা ইস্যু এক দুই দিনে স্বাভাবিক হওয়ার মতো কোন ইস্যু নয় ।
তাছাড়া কোনটি তুলনা মূলক ভালো হবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে? নাকি বন্ধ রাখলে? বিষয়টি অবশ্যই বাস্তবতার নিরিখে বিচার করা চাই।অন্যান্য যে কোন মৌলিক চাহিদার মতো, শিক্ষা আমাদের একটি মৌলিক বিষয। এটিকে যারা ছোট করে দেখতে চায়, তারা অবশ্যই অপরাধী।যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখে বিকল্প কোন উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যেতো, তাহলে তো কোন সমস্যাই ছিল না। কিন্তু এতদিনেও আমরা এর বিকল্প দায় করাতে পারিনি। এর পরিপূরক হিসেবে আমরা অনলাইন ক্লাসকে মোক্ষম বিকল্পের যায়গায় নিয়ে মেতে পারিনি। এতদিনে যেহেতু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস সঠিক ভাবে হয়নি, তা আর হবেও না । কারণ, এতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েরই যথেষ্ঠ অবহেলা পরিলক্ষিত হয়েছে। তাছাড়া, অনলাইন ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ঠ ও টেকশই প্রযুক্তি আমাদের হাতে নেই। এই বিষয়ে শিক্ষক , শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজন। চাইলেই কি এটি রাতারাতি রিপ্লেস করে ফেলা যাবে?
এখন পর্যন্ত এইচ এস সি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি । এই এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবন নিয়েও তো আমাদের ভাবা উচিত । কেবল হুজুগের তালে গা ভাসিয়ে দিলেই তো নদী পার হওয়া যায় না । ইতোমধ্যেই বাতিল হয়েছে পন্ঞম শ্রেণী ও ক্লাস ৮ এর পরীক্ষা । অন্যান্য শ্রেণীতেও নাকি কোন পরীক্ষা ছাড়াই আপগ্ৰেড দেয়া হবে !! বিষয়টা একবার ভেবে দেখেছেন কি ?? বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয় ।
তাছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই তো আর বন্ধ নয় । এরই মধ্যে কিছু কিছু খুলে দেয়া হয়েছে । তবে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল , কলেজ বন্ধ করে রাখার যৌক্তিকতা কি ? নাকি এগুলোতে বিশেষ কোন ভাইরাসের উপস্থিতি আছে ??
যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া না হয় , তবে অবশ্যই এর বিকল্প পদ্ধতি দেখতে হবে । শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাধ্যতামূলক অনলাইন ক্লাসের কথা বলা হলেও বাংলাদেশের বেশিরভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান এর কোন তোয়াক্কাই করছে না । তাই ক্ষতিগ্ৰস্থ হচ্ছে শুধুমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষার্থীরাই । তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেব আমি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পক্ষে অবস্থান করছি ।

Sharing is caring!

 

 

shares