৪০ সেকেন্ড অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার শরীরে ৪টি গুলি করেন লিয়াকত

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যা করা হয় এক মিনিটেই। টেকনাফ বাহারছড়ার পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইন্সপেক্টর লিয়াকত এক মিনিটে ৪টি গুলি করে। ৩টি গুলিতে ঝাঁঝরা হয় সিনহার শরীর। এমন তথ্যই শুরু থেকে ওঠে এসেছে নানাভাবেই।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে তথ্য নেন। রিমান্ডে থাকা বরখাস্তকৃত টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন র‌্যাবকে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করে যে, বরখাস্ত ইন্সপেক্টর লিয়াকতের বক্তব্য মতে, ঘটনার দিন রাতে ৪০ সেকেন্ড অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার শরীরে ৪টি গুলি করেন লিয়াকত। তার মধ্যে তিনটি গুলি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগলেও একটি গুলি তার মিসফায়ার হয়। ৩টি গুলি শরীরে ঢুকে আবার বের হয়ে যায়। যে কারণে সিনহার শরীরে ৬টি ছিদ্র হয়। আর গুলির কোষা লেগে আঘাত হয় সিনহার গলায় ও বিভিন্ন স্থানে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার কিছু সময় পরে র‌্যাব-১৫ কার্যালয় থেকে রিমান্ডে থাকা মূল ৩ আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে রাওনা দেন র‌্যাবের একটি বহর। পরে সোয়া ১টার দিকে বহরটি পৌঁছে ঘটনাস্থলে। তারপর একে একে তিন আসামি, যার যার ভূমিকা নিয়ে উপস্থাপন করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। এভাবে চলে প্রায় কয়েক ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্ত শেষে একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার।

তিনি বলেন, এমন কী ঘটনা ঘটেছিল সিনহাকে এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে গুলি করা হল। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপসহ সিনহা হত্যা মামলার প্রধান ৩ আসামিকে মেরিন ড্রাইভের ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আসামিরা হুবহু উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন। তাতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্নেল তোফায়েল বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ হয়েছে। মামলা তদন্ত কর্মকর্তা নানাভাবে বিশ্লেষণ করে ঘটনার যাচাই করছেন। এই ঘটনায় নির্দোষ কেউ যাতে জড়িয়ে না যায়, আর কোন দোষী ব্যক্তি যাতে ছাড় না পায়, সব বিবেচনা করেই এই স্পর্শকাতর মামলাটির তদন্ত চলছে। কোনো সত্য যাতে গোপন না থাকে। সেজন্য প্রতি সেকেন্ডকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

সূত্র:যুগান্তর

 

Sharing is caring!

 

 

shares