সিলেটে ঝিমিয়ে পড়েছে দলীয় কর্মসূচী:জনবিচ্ছিন্নের পথে রাজনৈতিক দলগুলো

ডি.এইচ.মান্না: করোনা ও বন্যায় বিপর্যস্ত দেশবাসী।ধীরে ধীরে সব কিছু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করলেও রাজনীতি যেন শূন্য গোয়ালে।রাজনীতিতে খেই হারাচ্ছে বাংলাদেশ।শাসক দলীয় সংগঠন আওয়ামীলীগ সরকারের পাশাপাশি টুকটাক জনকল্যাণমুলক কাজ করলেও দলীয় তেমন কর্মসুচী নেই বললেই চলে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,করোনা ও বন্যার সময় রাজনৈতিক দলগুলো জনকল্যাণমুখী উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারে নি।ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু কিছু কাজ করার চেষ্টা করলেও তা ছিল নিতান্তই অপ্রতুল।

বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য মিছিল সমাবেশ, জামাত অনলাইনে আল্লামা সাঈদীর মুক্তির ক্যাম্পেইন করেছিল।জানা যায়,করোনাকালে প্রকাশ্যে কেউ দলীয় কার্যক্রম না চালালে বিএনপি ও  জামাত দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা রাখার জন্য নিয়মিত অনলাইন মিটিং চালিয়ে যাচ্ছে।তবে মানুষের পাশে কেউ নেই।দীর্ঘদিন থেকে শাসকদলের নিপীড়নে বিরোধী মত ও পথের দলগুলো যখন বিধ্বস্ত তখন এ সময়ে জনসেবা মুলক কাজের মাধ্যমে অসহায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারত বলে অনেকেই মনে করছেন। শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করেই রাজনীতিতে ঠিকে থাকা যায় না বলে সচেতন মহল মনে করেন।তারা মনে করেন এভাবে চললে রাজনীতি দেউলিয়াত্বের শিকার হবে।পড়বে মহাসংকটে।ক্রমশ রাজনৈতিক দলগুলো হবে জনবিচ্ছিন্ন।রাজনৈতিক দল দলীয় কর্মীর না জনগণের ভাবনার বিষয়।

করোনা কালে সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ভুমিকা হতাশাব্যান্জক।দেশের সবচেয়ে পুরাতন দল বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ।সারা দেশে করোনা কালে যখন ত্রাণ চুরির মহোৎসব চলছিলো বিভিন্ন জায়গায়,তখন ত্রাণ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আটক হয়েছেন অনেক সরকারদলীয় সমর্থক।কিন্তু সিলেট আওয়ামীলীগ ছিল ব্যাতিক্রম।দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে মানুষের কাছে বেশি যাওয়ার সুযোগ তাদের হয়েছে।
সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে চলমান বন্যা ও কোভিড-১৯ এ বেশ কয়েকটি কর্মসূচী পালন হয়েছে। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে অসহায় জনজীবনের পাশে থাকার জন্য জেলা মহানগর আ’লীগ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। এছাড়াও সংগঠনের উপজেলা শাখাগুলো ও স্বতন্ত্রভাবে মানুষের পাশে ছিলো। কিন্তু টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পরও মানুষের পাশে যতটা যাওয়ার কথা ছিলো তা পারেনি সিলেট আওয়ামিলীগ। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল হওয়ার কারণে সরকারি সকল কর্মসূচী গুলোতে ছিল তাদের সরব উপস্থিতি।
চলমান কোভিড-১৯ ও বন্যার সময় জেলা বিএনপি কিছু কর্মসূচী পালন করেছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন সময় মেডিকেল ক্যাম্পেরও আয়োজন করেছে। বিচ্ছিন্নভাবে কোন কোন উপজেলা শাখাগুলোও ত্রাণ বিতরণ করেছে। দলের পাশাপাশি বিএনপির কোনো কোনো নেতাকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যক্তিগত ভাবে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করতে দেখা যায়।
সংসদের প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টি। সিলেটে একসময় দাপটে রাজনীতি করলেও মাঠের রাজনীতিতে নেই তেমন অবস্থান। চলমান কোভিড-১৯ তে তাদের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পরার মতো ছিলো না।
দেশের জাতীয় রাজনীতিতে জামাতের অবস্থান কখনো ৩য় আবার কখনো ৪র্থ। সিলেট তাদের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কম পেলেও তাদের মিছিল মিটিং ছিলো চোখে পড়ার মতো। কিন্তু চলমান বন্যা ও কোভিড-১৯ এ তাদের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রমে পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো নেতা নিজ নির্বাচনী এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করলেও তা ছিলো শুধুই শো-অপের জন্য।
একসময় সিলেটে সকল রাজনৈতিক দলের অবস্থান দৃশ্যমান থাকলেও বর্তমান দূর্দিনে তাদের অবস্থায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। ঝিমিয়ে পড়েছে তাদের দলীয় কর্মসুচী। মানুষের পাশে যতটুকু থাকার কথা ছিলো তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি কোনো রাজনৈতিক দল। সাধারণ মানুষের বক্তব্য হলো মানবতার কল্যানই যদি হয় রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য তাহলে এই দুঃসময়ে নেই কেন তারা মানুষের পাশে।
করোনাকালে দলীয় কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ ও উপর্যুপরি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ডেইলী সিএনবাংলা কে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সবার আগে জীবন পরে জীবিকা। দেশের সংকট কালে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা কর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ তার অবস্থান থেকে শোকের মাস আগস্ট উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচীর পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চলতি মাসে বেশ কয়েকটি কর্মসূচী ইতিমধ্যে শেষ করেছি যার অন্যতম মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, খতমে কোরআন, ও বৃক্ষরোপণ উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন,মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা মোমেনের মাধ্যমে আমরা অনেক গুলো পরিবারের পাশে দাড়িয়েছি।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের কাছে তাঁর দলের কার্যক্রম ও ভূমিকা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি ডেইলী সিএনবাংলা কে বলেন, আমাদের দলীয় কার্যক্রম আপাতত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে ।আমরা এই মুহুর্তে ভার্চুয়াল ভাবে সাংগঠনিক প্রোগ্রাম গুলো করছি।তাঁকে ‘আপনারা নিজেদের জনগনের দল বলেন..!!’ উল্লেখ করে এই সংকটে দলের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য কি করতে পেরেছেন প্রশ্ন করলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সাধ্যমত জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি। আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগতভাবে ও দলের পক্ষ থেকে মানুষের পাশে সবসময়ই ছিলেন। আমরা জেলা বিএনপির পক্ষে প্রায় ৫০ হাজার পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছি।
জামাতের সিলেট উত্তর জেলা আমীর আনোয়ার হোসেন খানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ডেইলী সিএনবাংলা কে বলেন ,আমরা যতটুকু করার কথা ছিলো তা করতে না পরলেও ৩ ধাপে ত্রাণ বিতরণ করেছি । বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গোয়াইনঘাট,কোম্পানিগঞ্জ ও জৈন্তাপুরের মানুষে পাশে ছিলাম। দলের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করেছি।
এবিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক এটিউ তাজ রহমানের লাস্ট ডিজিট ২৫ নাম্বারে কল দিলে উনি ফোন রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

Sharing is caring!

 

 

shares