ডিপ্রেশন একটি মানসিক ব্যাধি

রেজাউল হক জামানঃ এই কথাটা কারো মুখে একবারও কেউ শুনেননি এমন হতেই পারে না।জীবনটা যেন ডিপ্রেশনে ভরপুর।পরিবার থেকে শুরু করে ফ্রেন্ডসার্কেল, এসব জায়গা থেকে সামান্য কষ্ট পেলেই শুরু হয় আমাদের ডিপ্রেশন।ও কীভাবে বলতে পারল আমায় এ কথা?কেন বলল?কত ভালবাসি তাকে, সে আমায় এভাবে দুঃখ দিল! সত্যিই এ দুনিয়া কিছুই না! যার জন্য সব করবে সেই দুঃখ দেয়!আচ্চাহ আমার কী স্বাধীনতা বলতে কিছু নাই?স্বাধীনভাবে চলতে পারি না!বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারি না!এই একাকী জীবন থেকে একেবারে একাকী হয়ে দুনিয়ার স্বাদ গ্রহণ থেকে নিজেকে ঘুরিয়ে নিলে কেমন হয়? এবার ডিপ্রেশন গড়ালো আত্মহত্যায়।ভিক্টিম নিজের প্রাণ নিজে নেওয়ার জন্য উৎসাহী হয়ে উঠে। কিন্তু এসময় যদি কেউ সঠিকভাবে তাকে জীবনের মূল্য বা আত্মহত্যা করার করুণ পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করতে পারি হয়তোবা সে ভালো পথে ফিরে আসবে। তার মনের মধ্যে যে ডিপ্রেশন তা কাটিয়ে উঠতে পারবে।
যখন কোনো ব্যক্তি ডিপ্রেশন নামক মহারোগে ভোগে সে চায় মানুষ তাকে বুঝুক,তাকে সময় দিক,তার সাথে গল্প করুক,ঢং তামাশা করুক,নিজেকে সবসময় প্রফুল্ল রাখতে চায়। কিন্তু চারপাশ থেকে পায় না। বিধায় সে একাকী হয়ে যায় আর চায় আরো একাকী হয়ে যেথে। কিন্তু এ সময়ে চারপাশের মানুষ একটু পরিচর্যা করলে একটি প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হতো।

ডিপ্রেশন /আত্মহত্যা -র জন্য কে দায়ী?হ্যা আমি নিজেই !
অবাক হচ্ছেন?না অবাক হওয়ার কিছুই নেই! আমি যদি সব নরমাল বিষয়কে সিরিয়াস না করতাম তাইলে এমন হতো না।যদি এই,কথা সবসময় মনে রাখতাম আমার পরিবার কোনো দিনও আমার জন্য খারাপ চাইবে না, এখন বিষয়টা বুঝতাছে না পরবর্তীতে বুঝবে। বন্ধুত্ব দুই দিনের! ঝগড়া হতেই পারে, একসময় তারা বুঝবে। এতে সামান্য চিন্তা হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না।তবে এতো ডিপ পর্যায়ে নিয়ে কেন যাব?স্বাভাবিক বিষয় ভেবে স্বাভাবিক ভাবেই ছেড়ে দেব।নিজেকে অন্য ভালো একটি কাজে জড়িয়ে নেব যাতে বিষয়টি ভুলে থাকতে পারি।
একটা উদাহরণের মাধ্যমে বুঝাই-
মনে করুন,আপনি মধ্যাহ্নের ভোজের কথা ভুলে গেলেন!কেন ভুলে গেলেন?ধরুন মেসেঞ্জারে কারো সাথে চ্যাট করতে ছিলেন।আপনি ভোজের কথা ভুলে গেলেন চ্যাট করার কারণে!
এবার মধ্যাহ্নের ভোজকে ধরুন আপনার ডিপ্রেশন আর চ্যাট কে ধরুন কোনো ভালো কাজ। আপনি ডিপ্রেশন কে ভালো কাজের ধারা ভুলার চেষ্টা করুন।
ডিপ্রেশনকে কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করুন, গভীরে প্রবেশের নয়।

             লেখকের ছবি

যখন একটা মানুষকে দেখেন ডিপ্রেশনের দিকে ঝুকছে দয়া করে তার সাথে খারাপ আচরণ করবেন না।তাকে বুঝুন, বুঝান। তার সাথে সুন্দর সময় অতিবাহিত করুন।সব সময় তার সাথে জীবনের মুল্য বা নিজে কতুটুকু নিজের জীবনকে ভালোবাসেন তা নিয়ে আলোচনা করুন।সে যা বলতে চায় আগে তার কথা শুনুন। সে যা বলবে তার উলটা কিছু বলার প্রয়োজন নেই, তার কথা সঠিক মেনে নিন। এতে আপনার প্রতি তার বিশ্বাস জন্মাবে।পরবর্তীতে আপনি যা বলবেন তা মানার আশংকা থাকবে।সবচেয়ে বেশি এসময় পরিবারকে পাশে দাঁড়াতে হবে তারপর বন্ধুবান্ধব।
আসুন নিজে বাঁচি, অন্যকে বাঁচাই।

লেখকঃ
রেজাউল হক জামান
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ,
এম.সি. কলেজ, সিলেট।

Sharing is caring!

 

 

shares