“স্যোসাল মিডিয়ার আসক্তি, তরুন সমাজের নৈতিক মানের অবনতি”

বর্তমান যুগ জ্ঞান,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির কল্যানে মানুষ প্রচীন সকল যোগাযোগ মাধ্যম কে ভুলে স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ, বার্তা আদান প্রদান,ছবি শেয়ারিং করছে খুব সহজে। নানাবিধ সুবিধার জন্য স্যোসাল মিডিয়ার ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্যোসাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো হলো ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু সহ ইত্যাদি।
স্যোসাল মিডিয়া জীবন কে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আগে কার দিনের মত সংবাদ প্রচার বা আনন্দ, দুঃখ একে অন্যের সাথে দ্রুত সময়ে শেয়ার করতে পারে।স্যোসাল মিডিয়ার মধ্যে সর্বাদিক জনপ্রিয় হচ্ছে ফেইসবুক। পৃথিবীর প্রায় এক মিলিয়নের বেশী মানুষ ফেইসবুক ব্যাবহার করে।জানা গেছে এর মধ্যে বেশীর অংশ হচ্ছে তরুন তরুনী বা যুবক যুবতী।উন্নত তথ্য প্রযুক্তির সহচর্যে তরুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে এটি নিঃসন্দেহে ভালো দিক।তবে যে সময় টায় একজন তরুন শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে জ্ঞানের সন্ধানে লেগে থাকার কথা ছিল কিন্তু ঐ সময় টায় সে ফেইসবুকে ডানাকাটা পরীর সন্ধান করছে।ঘন্টার পর ঘন্টা অযতা সময় নষ্ট করছে। পড়ালেখার পাশাপাশি শারিরীক ও মানষিক ক্ষতি হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানিদের মতে এনড্রয়েড ফোনের নীল এন্টি-অক্সিডেন্ট সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতির কারনে চোখের পাশাপাশি ক্যান্সার সৃষ্টির আশস্কা বাড়িয়ে দেয়।এছাড়া নীল আলো মেনটানিন হরমুন কমানোর পাশাপাশি রেটিনার কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।ফলে দৃষ্টি শক্তি দৃষ্টি শক্তি ও স্মৃতি শক্তি লোপ পায়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দশ হাজার শিক্ষার্থীর উপর গবেষনা করে দেখা গেছে যারা পাচ ঘন্টা বা তার চেয়ে কম ঘুমায় তাদের হঠাৎ মৃত্যু হওয়ার আশস্কা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশী থাকে। ঘুমের সাথে হার্ট ও ব্রেইনের সম্পর্ক রয়েছে। ঘুম কম হলে বিষন্নতা ও মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। অসময়ে ঘুম আসা, ক্লান্ত হওয়া, দ্রুত রেগে যাওয়া ও আত্নহত্যার প্রবনতা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে তরুন তরুণী ডিপ্রেশনে ভুগে, পড়াশোনা ও সকল কাজে অমনোযোগী হয়ে যায়। যা নিঃসন্দেহে যে কোন পিতা মাতা বা পরিবারের জন্য রীতিমতো উদ্বেগের বিষয়।

স্যোসাল মিডিয়ার বিভিন্ন অশ্লীল পেইজ,ছবি,ভিডিও ক্লীপ দেখে নিজের জীবনকে নিজেই ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে ইয়াং জেনারেশন। টিকটক, লাইকি ভিডিও বানানোর পিছে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যায় করছে। সেই সাথে ম্যাসেজিং,চ্যাটিং এর মাধ্যমে ছেলে মেয়ে রিলেশনে জড়িয়ে নিজের উজ্জল ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে কেউবা আবার ডিপ্রেশনে পড়ে আত্নহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।

তবে প্রযুক্তির শুধু খারাপ দিক আছে তা নয়।প্রযুক্তির কল্যান কর দিক গুলোকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। খারাপ দিক গুলো এড়িয়ে চলে সচেতনতার মাধ্যমে ভালো দিক গুলো কাজে লাগিয়ে নিজের সুন্দর জীবন গড়ার জন্য চেষ্টা করা এবং সেই সাথে জীবনের সকল ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, ভালো লোকের সাথে চলাফেলা করা, কোরআন, হাদিসের আলোকে নিজের জীবন সাজানো প্রয়োজন।

ফেইসবুকে বিভিন্ন রকমের ভিডিও খুব সহজে স্কিনে দেয়া যায় বা উপরের ভিডিও অপশনে ক্লীক করলে ভিডিও দেখা যায় এই ভিডিও গুলো বেশীর ভাগই অশ্লীল। এই অশ্লীলতার ফ্যাক্টরি কে বন্ধ করা প্রয়োজন। এটি বন্ধ করতে ফেইসবুক স্কিনের উপরের ভিডিও বাটনে চাপ দিলে ‘Remove from short cut’ bar আসবে।এটি সিলেক্ট করলেই ভিডিও অপশন ডিলিট হয়ে যাবে।এবং অশ্লীল পেইজ বা অশ্লীল ওয়েব সাইট গুলো থেকে দুরে থাকা প্রয়োজন।
নিজেকে একজন ভালো মুসলমান ও ভালো মানুষ হিসেহে গড়ার জন্য সকল খারাপ দিক গুলো বর্জন করে ভালো দিক গুলো গ্রহনের চেষ্টা করা প্রয়োজন।

লেখক-মুনীর আহমদ খান
জকিগঞ্জ,সিলেট

Sharing is caring!

 

 

shares