কবে খুলতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো !

ডি.এইচ.মান্না, স্টাফ রিপোর্টারঃ দেশ ও বিশ্ব আজ অসহায়ের মত হার মেনে যাচ্ছে একটি ভাইরাসের কাছে। প্রাণঘাতী এই সংক্রমণ ভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাজ্য – যুক্তরাষ্ট্র সহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলো।

অনেক দেশের করোনা পরিস্থিতি শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে তাদের দেশের লগডাউন তুলে নিয়েছে। খুলা হচ্ছে দোকান-পাট হোটেল রেস্তোরাঁ।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ রোধে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য এখনো খুলে দেওয়া হয় নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো।
ফ্রান্সে একটি শিশু একাডেমী একদিনের জন্য খুলে ১০০জনের উপরে আক্রান্ত হয়। এতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠানকে।

করোনা পরিস্থিতি-তে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোও বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত করা হয় ৮ই মার্চ। এর পর দিন দিন এর প্রকোপ বাড়তে শুরু করে।

এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

অবশ্য বিশ্বের কিছু দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসায় ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে বাংলাদেশে কবে নাগাদ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যাবে তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। করোনা সংক্রমণ এখনও উচ্চ থাকায় নীতি নির্ধারকরা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, কবে চালু করা যাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন পাঠ কার্যক্রমের বাইরে থাকায় তাদের ফের অভ্যস্ত করার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি করোনা থেকে তাদেরকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া সিলেবাস ও পরীক্ষা নিতে না পারায় যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পুষিয়ে নিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৬ মার্চ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সে ছুটি আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আরও বাড়বে ছুটি। অনেকে সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা দেখছেন না। তবে যখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক, তার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে, টেলিভিশনেও ক্লাস চলছে। তবে দরিদ্র দেশ হওয়ার কারণে সবাইকে এই নিয়মের ভিতরে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। অনলাইনে ক্লাস হলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এর বাইরে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় বিভিন্ন দেশে শিক্ষা কার্যক্রম ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। ডেনমার্কে গত ১১ মার্চ বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুল খুলছে আগামী ২০ এপ্রিল। ব্রিটেনে জুন থেকে কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি জুলাইয়ের শুরুতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে থাইল্যান্ডে। তবে তাদের জন্য কাঁচের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়াল করা হয়েছে। পাশাপাশি তাপমাত্রা মাপা, হাত ধোয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতিবেশী দেশ ভারত এখনও স্কুল খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সেখানে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে। বাংলাদেশেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আপাতত পরীক্ষা ছাড়াই পাস করিয়ে দেওয়াসহ অনলাইনে কার্যক্রম জোরদার করার মতো নানা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে করোনার ঝুঁকি কমাতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার, হাত ধোয়া কিংবা তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেজন্য বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিতে হবে আগে থেকেই। শ্রেণিকক্ষে কীভাবে বসবে তা ঠিক করতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন সমস্যা সমাধানে জার্মানি, ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে আলাদা শিফট করে শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যদি প্রতিষ্ঠান গুলো শিক্ষার্থীদের পরস্পরের সরাসরি যোগাযোগ কার্যক্রম বন্ধ রাখা দরকার। যেমন অ্যাসেম্বলি, টিফিনের মতো সময় রয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়ের বিষয়টিও ভাবতে হবে। গণ পরিবহন ব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরে এ ধরনের সমস্যা প্রকট। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে করণীয় কি? সিলেবাস, পরীক্ষা, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ কীভাবে শেষ হবে, সে ব্যাপারে বৃহৎ পরিকল্পনা নিতে হবে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও আমলে নিতে হবে।

এসব বিষয়ে নিয়ে সরকারও নানা পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, আমরা মনে হয় একাদশে খুব
শিগগিরই ভর্তি শুরু করতে পারবো। করোনার মধ্যেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল দিতে পারলাম। এখন তাদের কলেজে ভর্তির বিষয়। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে হয়তো। কিন্তু একাদশে ভর্তি অনলাইনে করা যায়, তাই শিগগিরই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবো।

তিনি আরও বলেছেন, ‘করোনার কারণে চলতি শিক্ষাবর্ষ আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি শ্রেণিঘন্টার সঙ্গে সমন্বয় করে কমানো হতে পারে মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির সিলেবাস। এমন পদক্ষেপের কারণে আগামী বছরে ঐচ্ছিক ছুটি কমিয়ে আনা হতে পারে। যেসব পরীক্ষা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি সেগুলোর সংখ্যা কমিয়ে আনা যায় কিনা তাও ভাবছি।’ সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Sharing is caring!

 

 

শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর

 

 

shares