পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন

সিএনবাংলা ডেস্ক :: পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার এ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশি, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় অনুষ্ঠানে যোগদানকারী সকলে কালো ব্যাজ পড়েন।

সকালে চান্সারি প্রাঙ্গণে হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ইসলামাবাদে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান।

বিকেলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে চান্সারি প্রাঙ্গণে পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া করা হয়। স্থানীয় একটি মাদরাসার ১০ জন হাফেজ কোরআন খতমে অংশগ্রহণ করেন।

দিবসটি পালন উপলক্ষে সন্ধ্যায় এক আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাইকমিশনার ও হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ইউনেস্কোর মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান, জীবন ও কর্মের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেন। তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার তারিক আহসান তার বক্তব্যে শোকাবহ এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তার সাথে সকল শাহাদাতবরণকারীর আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে ঘাতকেরা শুধু ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করেনি। তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিশ্চিহ্ন করতে। তাই সংবিধান থেকে সমতা, অসাম্প্রদায়িকতা আর বাঙালি জাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত ধারাগুলো মুছে ফেলা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার করা যাবে না, এমন ধারা সন্নিবেশিত করে সংবিধানকে কলুষিত করা হয়। স্বাধীনতা বিরোধী দালালরা পুনর্বাসিত হয়ে দেশের নেতৃত্বস্থানে চলে আসে।

আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে একটি কবিতা আবৃত্তি করা হয়। সবশেষে বঙ্গবন্ধুর জীবনিভিত্তিক একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সিএনবাংলা/একেজে

Sharing is caring!

 

 

শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর

 

 

shares