কীর্তিমানদের মৃত্যু নাই

লেখাটি ফয়েজ আহমেদ বাবর স্বরণে

মানবজীবন ক্ষণস্হায়ী কিন্তু তার কর্ম চিরস্হায়ী।দৈহিক বিনাশ ঘটলেও কীর্তিমান ব্যক্তি মানুষের মনে অমরত্ব লাভ করে তার বেঁচে থাকা জীবনের কার্যকলাপে। কীর্তিমান মানুষের যেমন মৃত্যু নাই,তেমনি শেষও নাই।কারণ এ পৃথিবীতে সে তার নিজস্ব কর্মে অমরত্ব লাভ করে মানুষের হৃদয়ে। কীর্তিমানের মৃত্যু হলে তার দেহের ধ্বংস সাধন হয় বটে,কিন্তু তার সৎ কাজ ও অম্লাঈর্ত পৃথিবীর মানুষের কাছে বাঁচিয়ে রাখে।

কীর্তিমান মানুষ বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে জগতের জ্যোতি হয়ে যুগ যুগান্তর। এমনি একজন কীর্তিমান ব্যক্তির জীবন প্রদীপ অকালে ঝরে পড়লো মাত্র ৫১,বছর বয়সে। ফয়েজ আহমেদ বাবর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত ঘেষা উপজেলা জৈন্তাপুর এর সারিঘাটে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ফয়েজ আহমেদ বাবর ছাত্র জীবনেই ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ,কর্ম জীবনে আওয়ামিলীগ রাজনীতির সাথে অঙ্গাঅঙ্গি জড়িত ছিলেন। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামিলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আমৃত্যু। জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজে ১৯৯৮,থেকে আমৃত্যু সহকারি অধ্যাপক সহ সারিঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার বার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। রাজনীবিদ ফয়েজ আহমেদ বাবর, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয় ছিলো ব্যক্তি ফয়েজ আহমেদ বাবর।

এলাকার তথা উপজেলার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য ফয়েজ আহমেদ বাবর ছিলেন যুগান্তকারী একজন সংস্কারক। সমাজ উন্নয়নে প্রতিটি পদে প্রতিটি স্তরে তিনির অংশ গ্রহণ ছিলো আপন কর্তব্যে। নিরহংকার সাদা মনের ফয়েজ আহমেদ বাবর ছিলেন জৈন্তার প্রতিটি মানুষের হৃদয়াঙ্গনে। জৈন্তিয়ার ঐতিহ্যময় মুরব্বি শাষিত সমাজের অন্যতম সমন্বয়ক ১৭ পরগনার একজন অন্যতম সালিশ ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।

জৈন্তিয়ার গন মানুষের যেকোন দাবী আদায়ে ছিলেন তিনি অগ্রণী সিপাহসালার। তিনির কলমের ক্ষুরধার লেখনিতে ফুটে উঠত গন মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতিপ্রফলন। জৈন্তিয়ার ঘরে ঘরে গ্যাস-দাবী না অধিকার লেখা টি ছিলো তিনির যুগান্তকারী। এই কীর্তিমান ব্যক্তি ফয়েজ আহমেদ বাবর এর দেহের অবসান হলেও তিনির কর্মের অমরত্ব রবে অনন্তকাল জৈন্তিয়ার প্রতিটি মানুষের হৃদয়াঙ্গনে।

কীর্তিমানদের কাতারে আজ ফয়েজ আহমেদ বাবর। ৬,আগষ্ট ২০২০ বৃহঃবার রাত সাড়ে দশ টায় ক্ষণজন্মা ফয়েজ আহমেদ বাবর মাত্র ৫১,বছর বয়সে ইহজগত ত্যাগ করেন। মহান রব ফয়েজ আহমেদ বাবর কে উত্তম জান্নাত দান করুন। আমীন

লেখক: মাসুক আল আমিন (আদনান) 
             ইস্তানবুল, তুরস্ক

Sharing is caring!

 

 

shares