টেস্ট নিম্নমুখী, শনাক্ত ঊর্ধ্বমুখী

সিএনবাংলা ডেস্কঃ  দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তে কমছে টেস্টের হার। নমুনা টেস্ট কমলেও শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি সপ্তাহে করোনা টেস্টের জন্য নতুন পরীক্ষাগার চালু হলেও টেস্ট বাড়ে না। কমে গেছে নমুনা সংগ্রহের হারও। এতে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও করোনা সংক্রমণের পিক টাইম নির্ধারণে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা টেস্ট হয়েছে ৭ হাজার ৭১২ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯১৮ জন। শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৮৩টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত সোমবার করোনা টেস্ট হয়েছে ৪ হাজার ২৪৯টি। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৫৬ জন। শনাক্ত হার ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২ আগস্ট করোনা টেস্ট হয়েছে ৩ হাজার ৬৮৪টি। আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮৬ জন। শনাক্ত হার ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ১ আগস্ট করোনা টেস্ট হয়েছে ৮ হাজার ৮০২টি। আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৯৯ জন। শনাক্ত হার ২৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। দেশে ৩১ জুলাই করোনা শনাক্ত হয় ২ হাজার ৭৭২ জনের। রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ৬১৫টি। শনাক্ত হার ২৪ দশমিক ১২ শতাংশ। প্রায় দুই মাস পর সেদিন নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজারের ঘরে নেমে আসে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিদিনের হিসাব অনুযায়ী রোগী কমছে। আগে যেখানে গড়ে তিন হাজারের ওপরে রোগী ছিল, সেটা এখন তিন হাজারের নিচে নেমেছে। গত ৩০ জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার কমতে শুরু করেছে।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গত ২৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা দেশে করোনা সংক্রমণ কমতির দিকে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পিকে নাই, আইইডিসিআর এর তথ্যও বলছে আমরা পিক টাইমে নেই।’ টেস্ট কমিয়ে দেওয়ায় আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা কম আসছে। কিন্তু শনাক্তের হারে আগের তুলনায় বাড়ছে। এতে করে করোনার উপসর্গ থাকলেও শনাক্ত না হওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ফলে দেশ করোনামুক্ত হওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইইডিসিআর’র সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘যত নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে সেটা ২০-২৫ শতাংশের ভিতরে ওঠা-নামা করছে। এটা খুবই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। গত তিন জুলাই থেকে পরীক্ষা কমে গেছে তাই সংক্রমণও কমে গেছে। তখন থেকেই কম টেস্ট হচ্ছে। তাই এর ওপরে আশ্বস্ত হতে পারি না। সংক্রমণের শতকরা হার ঘুরপাক খাচ্ছে। রোগী সংখ্যা বাড়তি-কমতি দুটোই দেখা যাচ্ছে, তবে এটা টেস্টের কারণে।’

ছুটি শেষ হতেই বাড়ল মৃত্যু : ঈদের তিন দিন ছুটি শেষ হতেই বাড়ল করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। সেই সঙ্গে বেড়েছে রোগী শনাক্ত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে,  গত ৩১ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত পাঁচ দিনে দেশে করোনায় মারা গেছেন ১৫১ জন। এর মধ্যে ঈদের ছুটির তিন দিনে মারা গেছেন মোট ৭৩ জন।

আর ছুটি শেষে গতকাল একদিনেই মৃত্যুর খবর এসেছে ৫০ জনের। এদিকে ৩১ জুলাই সরকারি ছুটির প্রথম দিন হলেও ওই দিন দুই হাজার ৭৭২ জন করোনা রোগী শনাক্তের খবর জানানো হয়। নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৬১৪টি। ২৮ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। নিয়মানুযায়ী ৩১ জুলাই প্রকাশ করা হয় আগের দিনের তথ্য। আর ৩০ জুলাই অফিস খোলা থাকায় নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও সেদিন ছিল বেশি। এরপরই নমুনা পরীক্ষা, শনাক্ত ও মৃত্যু সবই কমে যায়।

ছুটির তিন দিনে ১৬ হাজার ৭৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৪৪১ জন করোনা রোগী। শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আগে এক দিনেই নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজারের ওপরে। ঈদের দিন গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন তিন হাজার ৬৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্ত হয় মাত্র ৮৮৬ জন রোগী। পরদিন ২ আগস্ট ব্রিফিংয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। গতকালের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় সাত হাজার ৭১২ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৯১৮ জন করোনা রোগী। মারা গেছেন ৫০ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ৩ আগস্ট অফিস চালু হলেও অনেকে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে থাকায় এখনো ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা আট হাজারের নিচে রয়েছে। এদিকে ছুটির পরপরই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ঈদের ছুটিতে করোনায় অনেক মৃত্যুর খবর তালিকায় আসেনি শনাক্ত না হওয়ার কারণে।

করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫০ জনের মৃত্যুর খবর আসায় ভাইরাসটির কারণে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৩৪ জনে। এক দিনে আরও এক হাজার ৯১৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ২০ জন। আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক হাজার ৯৫৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট এক লাখ ৩৯ হাজার ৮৬০ জনে। কভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা গতকাল এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের ৮৩টি ল্যাবে সাত হাজার ৭১২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ লাখ এক হাজার ২৫৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা জানান, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ ও ছয় জন নারী। ৪৫ জন হাসপাতালে এবং পাঁচজন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২৯ জন ঢাকা বিভাগের, পাঁচজন চট্টগ্রাম বিভাগের, পাঁচজন রাজশাহী বিভাগের, চারজন খুলনা বিভাগের, একজন ময়মনসিংহ বিভাগের, একজন বরিশাল বিভাগের, একজন সিলেট বিভাগের এবং চারজন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব ছয়জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৭ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৮ জন, সত্তরোর্ধ্ব পাঁচজন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন রয়েছেন।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও তথ্য। বাগেরহাট : জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে বাগেরহাট জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৩৪ জনে। সুস্থ হয়েছেন ৪৫০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চাঁদপুর : জেলায় ৩৩টি নমুনা পরীক্ষায় আরও ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪৫ জনে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১৫৭ জন।

দিনাজপুর : করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুর সদরের শাহ মো. রফিক উল আলম (৫৬) নামে এক স্বাস্থ্য পরিদর্শক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা ৩৮ জন। অপর দিকে একই সময়ে র‌্যাব-পুলিশসহ ৪৩ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৭৮৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২৫৪ জন।

কুমিল্লা : ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া ছিদ্দিকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ৭৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

গাজীপুর : জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আটজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গাজীপুরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ২৫৭ জনের। এ পর্যন্ত জেলায় সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৮৭৯ জন। মারা গেছেন ৫৫ জন।

বগুড়া : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর আলম করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ছঁই ছুঁই করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ায় নতুন করে ৩২ জনের করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হওয়ায় মোট রোগীর সংখ্যা এখন চার হাজার ৯৫৮ জন। সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৪৮৭ জন।

২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু হওয়ায় জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা ১০৯ জন।

 

সিএনবাংলা/মান্না 

Sharing is caring!

 

 

shares