শাবি শিক্ষার্থীদের অনশন চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন চলবে। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে ভিসি বিরোধী আন্দোলনকারীরা এ ঘোষণা দেন।এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার থেকে অনশনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা চালান আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ।

টানা ১৪৮ ঘন্টা অনশনরত সহপাঠিদের শারীরিক অবস্থা সংকটনাপন্ন দেখে এদিন বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে শাবির গোলচত্বরে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। আলাপ আলোচনা শেষে তারা সিদ্ধান্ত নেন, একজন নির্মম নির্দয় ও নির্লজ্জ উপাচার্য শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য যার সামান্যতম দয়া বা মায়া নেই, সেই ভিসির জন্য তারা তাদের সহপাঠিদের চোখের সামনে মরতে দিতে পারেন না।

এমন চিন্তাভাবনা থেকে তারা সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে গণমাধ্যমের সামনেই অনশনরতদের কাছে যান এবং তাদের অনশন ভাঙার অনুরোধ করেন। তার আগে তারা প্রকাশ্যে ভিসি ফরিদ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচিসহ অন্যান্য আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করেন।

এর জবাবে অনশনরত তিন শিক্ষার্থী জানান, তারা কোন অবস্থাতেই অনশন ভাঙবেন না। এখন ক্ষুধা বা অন্যকোন অনুভূতি কাজ করছেনা তাদের। আর তাই তারা অনশন ভাঙবেন না। এ পর্যায়ে আন্দোলনরত অন্য শিক্ষার্থীরা, একযোগে তাদের খাবার গ্রহণের অনুরোধ করলে তবুও তারা সাঁড়া দেননি।

তখন আবারও অনুরোধ করা হয়। বারবার সহপাঠিদের অনুরোধ আর আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়া হতে থাকলে এ পর্যায়ে অনশনকারীরা কিছুটা নমনীয় মনোভাব প্রদর্শণ করেন। তারা আন্দোলনকারী সহযোদ্ধাদের কাছে এক ঘণ্টা সময় চান নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা ও চিন্তাভাবনার জন্য। এই আলোচনা চলাকালে উপস্থিতি অনেক শিক্ষার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে অনশনরতদের এক ঘণ্টা সময় দিয়ে আন্দোলনকারীরা গোলচত্বরের দিকে চলে যান। তবে শেষ পর্যন্ত অনশনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে রাজি হননি। অবশেষে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেওয়া হয় অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতা শাহরিয়ার জানান এই ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ভিসি তালেবানি কায়দায় ক্যাম্পাসে তার শাসন অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি তিনদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীরা। ১৫ জানুয়ারি শনিবার তাদের আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ তাদের উপর হামলা চালায় বলে তারা অভিযোগ করেন। পরদিন রোববার ভিসিকে তারা ক্যাম্পাসে অবরোধ করলে পুলিশ হামলা চালিয়ে তাকে মুক্ত করে নিয়ে যায় তার বাসভবনে। এরপর থেকেই শুরু হয় একদফা আন্দোলন। ঘেরাও করা হয় ভিসির বাসভবন। গত বুধবার দুপুরের পর থেকে অনশন শুরু করেন আন্দোলনরতদের মধ্যে ২৪ শিক্ষার্থী। পরদিন থেকেই একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করেন। এ পর্যায়ে মধ্যস্থতায় আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। অনশন ভাঙাতে ব্যর্থ হলে তারই মধ্যস্থতায় শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বসেন আন্দোলনকারীরা। তবে কোন সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এরমধ্যে ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীরা কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছেন, নতুন করে আরও ৫ শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। রোববার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা ভিসির বাসভনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিনন্ন করেন। প্রায় ২৯ ঘন্টা পর তারা আবার সংযোগ দেন।

Sharing is caring!

 

 

shares