রাজনীতি তুই বড় নিষ্ঠুর, তোর ক্ষমা নাই

পর্ব-০১(এক)

গোলজার আহমদ হেলাল:

আমাদের প্রিয় এই দেশ।প্রিয় বাংলাদেশ।বিবর্তনের মধ্য দিয়ে পরিণত হয়েছে আজকের বাংলাদেশে।তবে একে টেকসই করতে না পারার সমুদয় দায়ভার রাজনীতির।দেশের জনগণের।

ব্রিটিশ প্রবর্তিত শিক্ষা,সংস্কৃতি,আইন সব কিছুই বহাল তবিয়তে।গোলামী যুগে গড়ে উঠা রাজনৈতিক দলগুলো আর স্বাধীন বাংলাদেশে সেনা ছাউনি থেকে সৃষ্ট দলগুলো ক্ষমতায় আরোহণ করলেও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে।

দেশ চালায় আমলারা,কেরানীরা।দেশের সিংহভাগ বেতনও নেয় তারা।এর পর স্পীড মানি তো আছেই।ব্রিটিশরা তাই চেয়েছিল। তারা কেরানিগিরির শিক্ষাই আমাদেরকে উপহার দিয়েছিল। এখনোও আছে।

স্বাধীন বাংলাদেশ সাক্ষী কেরানী ছাড়া কোন সরকারই দেশ চালাতে পারেনি।মন্ত্রীর পরেই কেরানী বাবুদের অবস্থান।লর্ড মেকলের তৈরী শিক্ষাকে আজো গলধকরন করছি আমরা।গ্রাজুয়েট হচ্ছে,উচ্চতর ডিগ্রিধারীরা বাড়ছে।কিন্তু মানসিকতার পরিবর্তন নাই।

রাজনৈতিক বিবর্তনবাদের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক লড়াই চলতে থাকে।এ লড়াই চলে জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় জাগ্রত করতে।এ লড়াইয়ে সভ্যতা ও সংস্কৃতির সৌধ শিখর গড়ে উঠে।কিন্তু আমাদের বিভাজন, বিভক্তি ও অনৈক্যের রাজনীতি জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে রেখেছে।যা দেশের উন্নয়নে বিরাট এক প্রতিবন্ধকতা।

সাধারণ জনমানুষের ভাষা বুঝতে পারাটাই রাজনীতি। মানুষের কল্যাণ যেথায় সেটাই রাজনীতি। মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়াটাই রাজনীতি। মানব কল্যাণ ও মানবিকতার আদর্শকে প্রতিভাত করার নামই রাজনীতি। হীনমন্যতা ও সংকীর্ণতা কখনো রাজনীতি হতে পারে না।

প্রাচীন নগর রাষ্ট্রে মানুষ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের পথ খুঁজেছিল। ইসলামের নবী মদীনায় নাগরিকদের শান্তি ও নিরাপত্তার কথা ভেবে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ গড়েছিলেন।সব সময়ই রাষ্ট্র জনগণ কে সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে।দুনিয়ার রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সমাজ কখনোও অপরাধকে উস্কে দেয় নি।কতিপয় দুরাচারী নেতা অনৈতিকতাকে পুঁজি করে বিত্ত -বৈভব ও ক্ষমতার মালিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন সবসময়।

রাজনীতি যদি দুর্বৃত্তদের দখলে চলে যায় মানুষের জীবনের কোন মুল্য থাকবে না।সমকালীন রাজনীতির দিকে তাকালে মনে হয় দেশের বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিটির কিছু অংশ বিভিন্নভাবে অপরাজনীতি করছে।কেউ দেউলিয়াপনাকে উস্কে দিচ্ছে,কেউ বেহায়াপনা ও বেলোল্লাপনাকে পৃষ্টপোষকতা করছে,কেউ অযোগ্য ও অখ্যাতদের দলে নেতা বানাচ্ছে,কেউ বা তাদের রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে দল ও গণমানুষের আস্থা হারাচ্ছে।অর্থাৎ প্রতিটি রাজনৈতিক সংস্থা কোন না কোনরুপে দুর্বৃত্তায়নের কবলে বন্দী অথবা তাদের কেউ না কেউ দুর্বৃত্তপনা করে যাচ্ছে। রাজনীতি এ রকম যখন হয়ে উঠে তখনই অপরাধ এবং অবিচারের মাত্রা বেড়ে যায় সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে।এজন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দল কে তাঁর নেতৃত্ব ও দলীয় কর্মকান্ডের গুণগত মান উন্নয়ন অপরিহার্য।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আলোকিত সিলেট, সহ-সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

Sharing is caring!

 

 

shares