করোনা কালে যাদের সাহসী ও মানবতাবাদী কার্যক্রম প্রশংসার দাবী রাখে(৪)

গোলজার আহমদ হেলাল:

‘এখন যৌবন যার,যুদ্ধে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় তাঁর’।

করোনাকালে মানবতাবাদী নায়ক-মহানায়করা প্রকৃতপক্ষে মহাকালের নায়ক। ইতিহাসের অন্যতম মানবতাবাদী নেতা ও প্রখর মেধাবী তরুণী অরণি সেমন্তি খান ও গণমানুষের নেতা ধীমান ব্যক্তিত্ব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর মতো ছাত্রনেতা মাহমুদা দীপাও পিছিয়ে নেই।

আমরা জিডিপি’র গান গাই, প্রবৃদ্ধির গান গাই। জীবনের গান গাইতে পারি না।”- এ কথাটি বলেছেন এ প্রজন্মের অগ্রপথিক অরণি সেমন্তি খান।
আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু করোনায় মানুষের ক্ষুধা নিবারনের যুদ্ধ দেখেছি।-মাহমুদা দীপা

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে অন্যতম কিংবদন্তী মেধাবী ও প্রতিভাধর ছাত্রনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি(Genetic Engineering and biotechnology) বিভাগের ডীনস এওয়ার্ড প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী এ সময়ের আলোচিত প্রতিশ্রুতিশীল অনন্য এক চৌকষ নেতৃত্ব সারা দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের হাতে গড়া সম্পুর্ন দলীয় লেজুড়বৃত্তি মুক্ত তৃতীয় ধারার স্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নির্দলীয় ছাত্র রাজনীতির অন্যতম ইউনিক প্লাটফর্ম ‘স্বতন্ত্র জোট’র অন্যতম নেতা হাল আমলের দুঃসাহসী ও প্রভাবশালী ছাত্রনেতা সুনিপুন সংগঠক, সুবক্তা ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রিয় সংসদে ভিপি পদপ্রার্থী মানবতাবাদী ব্যক্তিত্বের বিমূর্ত প্রতীক সুপ্রিয় অরণি সেমন্তি খান এর ভাষায়, “আমরা জিডিপি’র গান গাই। প্রবৃদ্ধির গান গাই। জীবনের গান গাইতে পারি না।” গত বছর করোনাকালে অরণি তাঁর ফেসবুক পোস্টে এ মূল্যবান কথাটি লিখেছিলেন।

সত্যিই আমরা অনেক কিছুর গান গাই। আমরা জিডিপির গান গাই, প্রবৃদ্ধির গান গাই, উন্নয়নের গান গাই। গান গাই সমুদ্র জয়ের। কিন্তু জীবনের গান গাইতে পারি না।

অথচ জীবনের গান গাওয়াটাই রাজনীতির চরম ও পরম স্বার্থকতা।
এ সংকটকালে জীবনের গান গাওয়াটাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। জীবন নদীরে প্রবহমান ও সচল রাখতে সবার সবকিছু কে বিলিয়ে দিতে হবে। একবার গ্রাম ঘুরে আসুন। কিংবা নগরের প্রান্তসীমায় অলি-গলিতে পদচারণা করুন। করুণ কাহিনীর সুর মুয়াজ্জিনের ধ্বনির মতো বেজে উঠবে আপনার কর্ণকুহরে।
অরণি একজন পোড় খাওয়া নেতৃত্বের প্রতীক।ডাকসু নির্বাচন,নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন,মেট্রো রেল ও কোটা সংস্কার সহ সকল ন্যায্য ও যৌক্তিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।এজন্য তিনি নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।শাসকদলের রোষানলে পড়ে রক্তাক্ত হয়েছেন।তাঁর মাথা ফেটে বাংলাদেশের সবুজ জমিন রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।এ প্রজন্মের দুঃসাহসী নেতা,অনলবর্ষী বক্তা ও সম্ভাবনাময় বিজ্ঞানী করোনাকালে প্রথমেই সচেতনতামুলক আন্দোলন শুরু করেছেন ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

কথায় আছে, রাজনীতির খবর মিলে চা-স্টলে, অর্থনীতির সুস্থতা অসুস্থতা জানা যায় বাজারে। আর তেমনি ভাবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ আর খেটে খাওয়া মানুষের খবর পেতে হলে যেতে হবে দুয়ারে দুয়ারে, পাড়ায় মহল্লায় আর গ্রামে গন্জে। তৃণমূলে না গেলে এ খবর মিলবে না। এসি রুমে বসে অনেক কিছু করতে পারলেও জনমানুষের রাজনীতি করা যায় না।

করোনাকালে যারা দুঃসাহসী ভূমিকা রেখেছেন তাদের মাঝে অন্যতম হলেন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আপোষহীন ছাত্রনেতা মাহমুদা দিপা।তিনি বলেন,গত বছর করোনার ভয়াল থাবার সময় আমরা টিএসসি’তে ৩মাস ছিলাম।তিনি বলেন,আমি আসলে আমাকে নিয়ে লিখার মতো তেমন কিছুই করিনাই মানুষের জন্য।করোনাকালে আসলে আমরা টিএসসি ছিলাম ২৩ জন। আমরা টিএসসি ৩মাস ছিলাম। আমরা টিএসসি থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী করে বিতরণ করেছি প্রায় দেড় লাখ বোতল। এবং এর পাশাপাশি আমরা খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করেছি। আমাদের একটা হটলাইনও ছিলো কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যেত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো লজ্জার কারনে খাবার চাইতে পারতোনা প্রকাশ্যে। তারা আমাদের ফোন করতো এবং আমরা তাদের পরিচয় গোপন রেখে তাদের বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিতাম।
দীপা জানান,একবার এমন হয়েছে আমি এবং আমার এক সহযোদ্ধা খাবার দিতে গিয়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে পড়েছিলাম, যারা আমাদের সিএনজি ঘেরাও করে রেখেছিলো। খাবার না দিলে আমাদের সেখান থেকে যেতে দিবেনা। এবং তাদের কারো হাতে ছুরি ও ছিলো, মানে তাড়া ক্ষুধার জন্য মানুষ ও মেরে ফেলতে প্রস্তুত ছিলো তখন। আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু করোনায় মানুষের ক্ষুধা নিবারনের যুদ্ধ দেখেছি।

তিনি বলেন,গেল বছরে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ছিলাম আমরা।ছবির কথা জিজ্ঞেস করতে বলেন, তারওপর ঐ সময় আসলে আমারা ছবি তোলার মত অবস্থায় ছিলাম না।আমি আমার সহপাঠি ও ছাত্র ইউনিয়নের বন্ধুরা সহ ২৩ জন আমরা টিএসসি ছিলাম দিন রাত ২৪ ঘন্টা।

মাহমুদা দীপা একজন সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল নেতা।বাংলাদেশের আগামী দিনের আশার আলোকবর্তিকা।এ প্রজন্মের দুঃসাহসী এক ছাত্রনেতা।প্রগতিশীল আন্দোলনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।বিগত কিছুদিন আগে
ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনে তাঁকে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীদের পক্ষ থেকে থ্রেট করা হয় এবং নোয়াখালীতে তো তাদের ওপর শাসকদলের পক্ষ থেকে আক্রমনও করা হয়।তিনি অনেকদিন হাসপাতালে ছিলেন।

সিএনবাংলা /রেজাউল করিম

Sharing is caring!

 

 

shares