বানিয়াচংয়ে মুরাদপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ভিজিএফ’র ২৭ বস্তা চাল জব্দ

সিএনবাংলা ডেস্ক :: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোতাহের মিয়ার বাড়ি থেকে ভিজিএফ’র ২৭ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় জনগণ ও উপজেলার ট্যাগ অফিসের নির্দেশে চেয়ারম্যানের নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা চালের বস্তাগুলো উদ্ধার করে জব্দ করেন। জব্দকৃত ২৭ বস্তা চাল বিতরণের জন্য পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে, সরকারি চাল আত্মসাতে চেষ্টাকারী ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের প্রত্যেক ইউনিয়নে মাথা পিছু বিনামূলে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেন। মুরাদপুর ইউনিয়নে ৭২৭ জন দরিদ্র অসহায় লোকজনদের চাল দেয়ার তালিকা তৈরী করা হয়। মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল বিতরণের শুরুতেই ইউনিয়নের গোদামে উপজেলা ট্যাগ অফিসার গণনা করে দেখেন ২৭ বস্তা চাল নেই। এ সময় তিনি এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার মিয়া ও ইউপি সচিব শামছুল ইসলাম খন্দকারকে জিজ্ঞাসবাদ করলে তারা সন্দেহজনক আচরণ করেন।

এ সময় স্থানীয় লোকজন ও ইউনিয়নের সদস্যরা জানান, ইউপি সচিবের যোগসাজসে ২৭ বস্তা চাল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি রায়পুর গ্রামের নিয়ে রেখেছেন বলে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ট্যাগ অফিসার আতিক মোল্লা ও মেম্বাররা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে চাল এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার বাড়ি থেকে চাল ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে আসতে বাধ্য হন। পরে ওই চালগুলো জব্ধ করা হয়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা ট্যাগ অফিসার আতিক মোল্লা জানান, মুরাদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোতাহার মিয়া তালুকদার ভিজিএফ ২৭ বস্তা চাল আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে নিয়ে রেখে ছিলেন। এ বিষয়টি টের পেয়ে আমি তাকে চালের বস্তাগুলো বের করে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করি। এক পর্যায়ে চাপের মুখে সে স্বীকার করে চালের বস্তাগুলো তার বাড়িতে রয়েছে। পরবর্তীতে সে চালের বস্তাগুলো ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন- চালের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়টি আমি ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, ট্যাগ অফিসার ও ইউনিয়নের মেম্বারসহ জনগণ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

সিএনবাংলা/একেজে

Sharing is caring!

 

 

shares