জগন্নাথপুরে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, সাত জনের পদত্যাগ

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি ::  দীর্ঘ ২০ বছর পর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটি অনুমোদনের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে সাতজন পদত্যাগ করেন।

ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের উপজেলা পৌর ও কলেজ শাখায় ছাত্রদলের কোন কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীরা কমিটির জন্য জোর লবিং শুরু করেন। বুধবার রাতে জগন্নাথপুর উপজেলা, পৌর ও সরকারি কলেজে কমিটি অনুমোদন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য সচিব তারেক মিয়া। কমিটিতে উপজেলা শাখায় মামুনুর রশিদ আহবায়ক এবং সামছুল ইসলাম কে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পৌরসভায় ইমন আহমদকে আহবায়ক, মোবারক হোসেন কে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট পৌর ছাত্রদলের কমিটি ও জগন্নাথপুর সরকারি কলেজে রহুল আমিনকে আহবায়ক ও আব্দুল কাদির কে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য আহায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কমিটিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা শাখা থেকে জাহিদুল ইসলাম ও জুয়েব হোসাইন পদত্যাগ করেন। পৌর শাখা থেকে মির্জা তামিম আহমেদ, ইকবাল হোসেন, আলাউর রহমান পদত্যাগ করেন। জগন্নাথপুর সরকারি কলেজে শাখা কমিটি থেকে কাশেম মিয়া ও দুলু মিয়া পদত্যাগ করেন।
কাশেম মিয়া জানান,আমি আহ্বায়ক প্রার্থী ছিলাম। জ্যেষ্টতা লঙ্ঘন করে কমিটিতে আমাকে যুগ্ম আহ্বায়ক রাখা হয়েছে।তাই আমি এ পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। শুক্রবার জেলা কমিটির নিকট পদত্যাগপত্র পৌঁছে দিয়েছি।

জগন্নাথপুর পৌর ছাত্রদল নেতা মির্জা তামিম আহমেদ জানান, আমি আহ্বায়ক প্রার্থী হিসেবে প্যানেল জমা দিয়েছিলাম। আমাকে কমিটিতে সদস্য রাখা হয়েছে। এছাড়াও সক্রিয় নেতাকর্মীরা কমিটিতে স্থান পাননি তাই আমি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।

উপজেলা ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ২০ বছর পর ছাত্রদলের কমিটি হয়েছে। নেতাকর্মীদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কমিটি গঠনে ব্যপক অনিয়ম হয়েছে। মাঠের পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে এক নেতার পছন্দের কর্মীদিয়ে মনগড়া কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি একটি স্বাগত মিছিল করতে পারেনি আমরা কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা মিছিল করব।

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি ছিল না তাই পদপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বেশি। সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব নয় তাই কিছুটা অসন্তোষ থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত ২০০১ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে রাজু আহমদকে সভাপতি ও কবির আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৫ সালে ছাত্রদল সভাপতি রাজু আহমদ স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে যান যুক্তরাজ্যে। এরপর দলের সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ উপজেলা বিএনপির কমিটিতে স্থান পেয়ে বিএনপির রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে রয়েছেন। এরপর থেকে উপজেলা কমিটি না থাকায় হয়নি পৌর ও কলেজ কমিটি।

সিএনবাংলা/জীবন

Sharing is caring!

 

 

shares