তামান্নার বিয়েতে প্রতারণাঃ অভিযোগের তীর শাহনাজের দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচ.এস.সি) পরিক্ষার ফলপ্রার্থী সৈয়দা তামান্না বেগম(১৭) বিয়ের দেড় মাসের মাথায় খুন হন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জ সানরাইজ পার্টি সেন্টারে বরিশালের ছেলে আল মামুনের সাথে বিয়ের পীড়িতে বসেন তামান্না। তামান্না হত্যার পর বারবার যে নামটি সামনে আসছে সে হলো শাহনাজ পারভীন।

তামান্নার মা বারবার মিডিয়াতে বলছেন শাহনাজ পারভীনের প্রলোভনে পরে আমার মেয়েকে হারালাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই বিয়ের সম্পুর্ণ ঘটকালী করেন শাহনাজ পারভীন ।

তিনি সিলেটের মেঘনা লাইফ ইন্সুইরেন্সের জোনাল ইনচার্জ এর দায়িত্বে রয়েছেন। বিয়েতে রাজি ছিলো না তামান্নার পরিবার । শাহনাজ পারভীন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তামান্নার পরিবারকে বিয়ে দিতে বাধ্য করেন।

বিয়ের পূর্বে শাহনাজ পারভীন তামান্নার পরিবারকে জানায় আল-মামুন একজন সিলেটের স্থানীয় নাগরিক। দেখান তার জাতীয় পরিচয়পত্র। জাতীয় পরিচয় পত্রে উল্লেখ করা হয় কাজীটুলাস্থ বাসার ঠিকানা । তামান্না হত্যার পর মামলার প্রস্তুতির সময় পুলিশ জানায় তার জাতীয় পরিচয়পত্রটি জাল।এই বিয়েটি শাহনাজ পারভীন তঢ়িঘড়ি করে কম খরচে আয়োজন করে দেন।

তিনি তামান্নার পরিবারের সদস্যদের বলেন, এই যুগে আল-মামুনের মতো ছেলে পাওয়া কঠিন। মাস্টার্স পাশ আল-মামুন সিলেট শহরে কাপড়ের দোকান ছাড়াও জুয়েলারি ব্যবসা সহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার সাথে জড়িত। কিন্তু বিয়ের পর এসব কোনো কিছুরই সত্যতা পায় নি তামান্নার পরিবার। বরং বিয়ের পর আল মামুনের ভয়ংকর রুপ দেখতে পারেন তামান্নার পরিবার।  বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ দেন। জমি রেজিস্ট্রারী, ও দোকানে কাপড় উঠানোর জন্য তামান্নাকে বাসা থেকে টাকা আনার জন্য বলেন।

অবশেষে বাধ্য হয়ে তামান্নার বাসা থেকে ১৫ হাজার টাকার হাঁড়ি, পাতিল, ডিনারসেট কিনে দেন তামান্নার পরিবার। কিন্তু সম্পূর্ণ যৌতুক দিতে না পারায় আল মামুন তামান্নার উপর শারীরিক নির্যাতন  চালায়। আল মামুন এ নির্যাতনে মৃত্যুর কোলে ঢেলে দেয় তামান্নাকে।

তামান্নার এই মৃত্যুর জন্য কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না শাহনাজ পারভীন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তামান্না বিয়ের পর শাহনাজ পারভীনকে কল দিয়ে  কেঁদে কেঁদে তার উপর যে নির্যাতন হচ্ছে তার বিস্তারিত বর্নণা দেন । কিন্তু এতে  কোনো পদক্ষেপ নেননি শাহনাজ ।

তামান্নার মা কেঁদে কেঁদে মিডিয়াতে বলছিলেন শাহনাজ পারভীনের ফাঁদে পা না দিলে আমার মেয়ে আজও বেঁচে থাকতো। শাহনাজ পারভীন বরিশালের ছেলেকে সিলেটের স্থায়ী নাগরিক বানিয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন ।

সিএনবাংলা/ এম(১২)

Sharing is caring!

 

 

shares